নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে ওয়ার্ড শ্রমিক দলের নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে রাসেলকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শ্রমিকদল নেতার স্ত্রী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) শেরেবাংলা নগর থানায় আহত রাসেলের স্ত্রী শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
আহত রাসেল ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি প্রার্থী। আহত রাসেল বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লকে প্রধান আসামিসহ আরো ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
অন্য আসামিরা হলো-পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, পিচ্চি জুয়েল, মনির হোসেন, মনির হোসেন শান্ত, পাপ্পু, আসাবুর রহমান, লিমন, মামা সাইফুল, সোহেল, সুজন ওরফে কালা সুজন, আল আমিন, ছোট ফেরদৌস, জাফর, জসিম, ইমরান, খাইরুল, ইমরান হোসেন বায়েজিদ, উজ্জল, জীবন ও ফেরদৌস। এজাহারে বাদী শিরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল একজন ব্যবসায়ী।
রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়ল তার স্বামীর ওপর পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাকে শায়েস্তা ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে জাহিদ মোড়ল অন্যান্য আসামির সঙ্গে যোগসাজশ ও পরিকল্পনা করে আসছিলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থানকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়লের নির্দেশে অন্য আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে রাসেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে ৬ নম্বর আসামি মনির হোসেন শান্ত তার হাতে থাকা সামুরাই দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লক্ষ্য করে কোপ দেন। প্রাণরক্ষার্থে রাসেল ডান হাত দিয়ে সেই কোপ প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সামুরাইয়ের আঘাত তার ডান হাতের কনুইয়ে লাগে। এতে সেখানে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়।
এ সময় ৭ নম্বর আসামি পাপ্পু তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে রাসেলের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। রাসেল ওই আঘাত বা হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাঁ হাতের তিনটি আঙুলে চাপাতির আঘাত লাগে এবং গুরুতর জখম হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অন্য আসামিরাও রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে থাকা চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাত করে জখম করেন। রাসেল ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তখন আসামিরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে বাদী শিরিন আক্তার বলেন, আমার স্বামী ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তাকে জাহিদ মোড়ল প্রার্থী হতে নিষেধ করেছিল। সে না শোনায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাহিদ মোড়ল তার সিন্ডিকেটের লোক বসাবে তাই আমার স্বামীকে সরিয়ে দিতে এই হামলা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা আমার স্বামীকে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হাতের কনুই কেটে ফেলেছে। এছাড়া রড দিয়ে একই স্থানে বারবার আঘাত করার কারণে হাতের মাংস পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তার হাত এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
মামলার বিষয়ে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একেএস/এআরএম