জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ পিএম
বিএনপির ঐতিহ্য হচ্ছে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার সেই প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে নতুন ভিত্তি দিতে বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত জুলাইয়ের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার প্রমাণ। গণভোটের গণরায়কে অসম্মান করার মধ্য দিয়ে সরকার এর যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জঘন্য অপরাধ করেছে। অতীতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করার ইতিহাস নেই, যা করেছে বর্তমান সরকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সমালোচনা করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। অথচ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দলীয়করণ করে নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা অর্পণের পরিবর্তে অধিকাংশ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাবিরোধী।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির ঐতিহ্য হচ্ছে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া। অতীতে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার সেটা ফিরিয়ে আনতে নতুন ভিত্তি দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
শিক্ষকদের দাবি আদায়ে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের ভোগান্তি ও বঞ্চনা নিরসনে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় দুর্বৃত্তদের হাতে শিক্ষকদের অপমান ও অপদস্থ হওয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক নুরনবী মানিক, অধ্যাপক মাওলানা শাহজাহান মাদানী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, ড. আব্দুস সবুর মাতব্বর, মো. মতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরকার ও অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল।
বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কয়েক ধাপে আন্দোলন করার প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিদ্যমান প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
টিএই/এআর