নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
‘সেক্স ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার ও নিজের নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন চালানোর অভিযোগ তুলে কথা বলেছেন নারী চিকিৎসক এবং এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই ইনফ্লুয়েন্সারের দাবি, হেয় ও বিব্রত করতেই দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে তার নাম-ছবি ব্যবহার করে ওষুধ, স্লিমিং পণ্যসহ বিভিন্ন ওষুধ বিক্রির নামে প্রতারণা চলছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
শনিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে কিছু আওয়ামী কর্মীরা আমাকে ‘সেক্স ডাক্তার’, ‘যৌন ডাক্তার’ বলে প্রচার করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আমাকে হেয় করা, লজ্জা দেয়া। যদিও ওনাদের এই প্রচার মিথ্যা (কারণ আমি মেডিসিনের ডাক্তার), তবুও আমি আজ পর্যন্ত এই অপপ্রচারের কোনো জবাব দেইনি দুইটা কারণে।’
‘এক. আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, ‘না না, আমি ওরকম ডাক্তার নই’, তাতে হয়তো ওনাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার। এতে অন্যায় হতো সেই ডাক্তারদের প্রতি, যারা যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন। মানুষের এমন অনেক কষ্ট আছে, যা সে মা-বাবাকে বলতে পারে না, বন্ধুকে বলতে পারে না, এমনকি অনেক সময় নিজের স্বামী বা স্ত্রীকেও না। এদের পাশে সহায় হয়ে দাঁড়ান এই চিকিৎসকেরাই। তাদের হাতে ভাঙা সংসার জোড়া লাগে, নিঃসন্তান দম্পতির কোলে সন্তান আসে, গভীর হতাশা থেকে মানুষ আলোয় ফেরে। এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?
‘দ্বিতীয় কারণটা রোগীদের নিয়ে। আমি যদি এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হতাম, তাহলে এমন ধারণায় সায় দেওয়া হতো যে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই। অথচ এই লজ্জার দাম প্রতিদিন গুনছে অসংখ্য মানুষ। সংকোচে ডাক্তারের কাছে যায় না, হাতুড়ের খপ্পরে পড়ে, ভুল ওষুধ খায়, বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সইতে থাকে। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে যে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এসব দেখে করুণা হয়। এরা নিজেকে প্রগতিশীল বলে পরিচয় দিতে চান, অথচ সত্যিকারের প্রগতিশীলতার জন্য যে জ্ঞান আর সহানুভূতিশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন, তা রপ্ত করতে পারেননি। ‘যৌন ডাক্তার’ কথাটাকে তারা গালি ভাবেন না-জানা থেকে, কূপমণ্ডূকতা থেকে। কুয়োর ভেতর থেকে আকাশটা ছোট দেখায়, সে দোষ তো আকাশের নয়।’
বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণ হিসেবে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখলাম, আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ১৬০টি বিজ্ঞাপন চলছে। এই অপপ্রচারের কৌশলটা লক্ষ্য করার মতো। প্রথমে আমার ছবির সঙ্গে অশ্লীল কথা জুড়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালান; তারপর সেই বিজ্ঞাপনেরই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে বলেন, ‘দেখুন, ইনি এই সব বিক্রি করেন! এমন অশ্লীল কথা বলেন!’ ওনাদের এই নাটকের সুযোগে নেমে পড়েছে একদল প্রতারক। আমার নাম-ছবি বসিয়ে বিক্রি করছে ওষুধ, স্লিমিং পণ্য, হরেক রকম ‘চিকিৎসা’।
নিজের নামে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন দিন কোনো ওষুধ বিক্রি করিনি। কোনো স্লিমিং পণ্য বিক্রি করিনি। কোনো চিকিৎসা, কোনো ট্রিটমেন্ট বিক্রি করিনি। আমার নাম বা ছবি দিয়ে যেখানে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা।’
তাসনিম জারা আরও লিখেছেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের জন্য আমাদের তৈরি একটা অ্যাপ আছে: Shohay Pregnancy। সেখানেও কোনো পণ্য বিক্রি হয় না। অধিকাংশ মানুষ অ্যাপটা ফ্রিতে ব্যবহার করেন; কেউ কেউ অ্যাপের প্রিমিয়াম ভার্সন কিনে ব্যবহার করেন। তাই আমার নামে কোনো ওষুধ, চিকিৎসা বা প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও দেখলে নিশ্চিন্তে ধরে নেবেন, এগুলো প্রতারকদের কাজ। এসব তো কিনবেনই না, আশপাশের কাউকে কিনতে দেখলে সতর্ক করে দেবেন। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন কিন্তু এসব প্রতারণার কৌশল বুঝেন না।’
পোস্টের শেষ দিকে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নারী চিকিৎসক লিখেছেন, ‘যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন, সেই চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা। আর রোগী হিসাবে আপনার কোনো যৌন সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে সংকোচ করবেন না। অনেক রোগের ক্ষেত্রেই যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন, তত ভালো।’
এমআর