নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির নেতারা বলেছেন, জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় সংস্কারই টেকসই হবে না। বাজারে সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশের সব রাজনৈতিক দল একমত। তবে জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে এ ধরনের ধাক্কাধাক্কি এবং হলগুলোতে ছাত্রদের মারামারির ঘটনা ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম করছে। এ মুহূর্তে বিভেদ ও বিরোধে না জড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী ও মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীর সঞ্চালনায় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে উপেক্ষা করা যাবে না। সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য সব পক্ষের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
মাওলানা আফেন্দী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাই শুধু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের আলোচনা করলেই হবে না, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটও সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের শোক, দুঃখ ও কষ্ট উপলব্ধি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
কাউন্সিলে বক্তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা ইসলামি দলের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য নির্মাণ করা শরিয়াহসম্মত নয়। জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যেসব ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণের দাবি জানান তারা।
কাউন্সিলে মুফতি মাহবুবুল আলমকে সভাপতি, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীকে সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা আনোয়ার হামিদীকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মুফতি শাব্বির আহমদকে প্রচার সম্পাদক করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এমআর/এআর