নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
আওয়ামী লীগ অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ’ সামনে আনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আড়াল করতে দলটি যেভাবে জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলত, এখন বিদেশের মাটিতে বসেও একই কৌশল অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপন নিয়ে সরকারের অবস্থান কী— জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো নোংরা রাজনীতি। শেখ হাসিনা ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়ন চালানোর সময় যখনই গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় সামনে এসেছে, তখনই তারা জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। এখন বিদেশের মাটিতে বসেও একই কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ পাওয়ার জন্যই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটি দুই দেশের সরকার ও জনগণই চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার যদি সেটি বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।
মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল?
তার ভাষায়, বাংলাদেশের মানুষ দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ এবং গত ১৭-১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার-সরকার সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।
ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের চিঠি দিয়েছি। এখন ভারত কী জবাব দেয়, সেটির জন্য অপেক্ষা করুন।
এসএইচ/এআরএম