Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে: ঢাকা মেইলকে সারজিস

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

আজ ৫ আগস্ট। রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০২৪ সালের ৫ জুন কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ৫ আগস্টে গিয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। 

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশা ছিল, তা কতটুকু পূরণ হয়েছে? অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে সেই প্রশ্নই রেখেছিল ঢাকা মেইল।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, আসলে আমাদের যে ক্ষতটা, বাংলাদেশের সামগ্রিকভাবে—আমাদের চিন্তায়, মননে, মগজে, কালচারে, আমাদের সিস্টেমগুলোতে—এটা একটা দীর্ঘ সময়ের ক্ষত। প্রথমে এটা মনে করছিলাম যে, এটা স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরের ক্ষত। তারপর মনে হলো যে না, এর আগেও তো পাকিস্তান যে আমল ছিল, ওই সময়েও তো আমরা এমন একটা করাপ্টেড কালচারের মধ্য দিয়ে এসেছি। এর আগে ব্রিটিশ আমল, শোষণের কালচারের মধ্য দিয়ে এসেছি, বৈষম্যের কালচারের মধ্য দিয়ে এসেছি। সো, এটা অনেকটা মনে হচ্ছে ব্যাপারটা আমাদের রক্তে প্রথিত হয়ে গিয়েছে।’

সারজিস বলেন, ‘সেই জায়গা থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তত এই দুই বছরে কিংবা ওই সময়ে যতটা প্রত্যাশা ছিল, ততটা তো পূরণ হয়নি। কিন্তু আমি একটা জিনিস মনে করি যে, একটা পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে। সেটা হচ্ছে, আপনি দেখবেন যে, ২৪-এর আগে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সেভাবে ছিল না। মতামতও সেভাবে দেওয়া হতো না এবং একটা ‘আই হেইট পলিটিক্স’—এই টাইপের একটা মানসিকতা ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে এসে তারা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে, মতামত দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যেকোনো পলিটিশিয়ান, আমলা বা যে কেউ যেকোনো কিছু করেই পার পেয়ে যাচ্ছেন, ওই সুযোগটা এখন আর নাই এবং আগের যে রাজনৈতিক কালচারগুলো ছিল, ওই একই কালচার যদি কেউ কন্টিনিউ করে, তাহলে রাজনীতিতে তার জন্য প্রাসঙ্গিক থাকা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।’

এনসিপি নেতা বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে, এটা একটা অর্জন। এর পরবর্তীতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের রোডম্যাপ আমাদের সামনে এসেছে। যদিও এগুলো আরও বাস্তবায়ন যদি ওই টাইমে হয়ে যেত, তাহলে ভালো হতো। তো এই রোডম্যাপটাও আমাদের একটা অর্জন।’

তিনি বলেন, ‘এখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ইতোমধ্যেই কিছুগুলো অধ্যাদেশ তারা আইনে পরিণত করেছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণগুলো এখনো করে নাই। তো সেটা যদি করে এবং যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে, তাহলে এটা একটা অর্জন হবে। ধীরে ধীরে এই সংস্কারটা আগাবে। কিন্তু যদি এটা না করে, তাহলে আমরা এটা মনে করি যে, বিএনপি ৫ বছর তাদের জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ তারা তো মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে চাচ্ছে, এটা কিন্তু সম্ভব হবে না।’

সারজিস আরও বলেন, ‘এই যে ওসমান হাদির মতো মানুষেরা, তারা জীবন দিয়ে গেল; প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলায় যখন আমরা যাই, মানুষ—তরুণ প্রজন্ম এই কথাটা বলে, ‘ওসমান হাদি হত্যার বিচারটা করেন। তারা এটাতে কানেক্টেড ফিল করে। সামগ্রিকভাবে মনে হয় যে, প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে।’

এএইচ