Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

বিপ্লবী ছাত্র-জনতা সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করবে: জামায়াত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলা ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। 

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস ও ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মো. আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত জুলাইভিত্তিক একটি প্রদর্শনীতেও হামলার ঘটনা ঘটে। একইভাবে ঢাকা আলীয়া মাদরাসায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে হলের কক্ষ থেকে কয়েকটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা কলেজেও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি বন্ধ হবে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং ক্যাম্পাসে আর অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার গঠনের পর ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের শাসনামলের আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথ অনুসরণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আহত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হেলমেট পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও মিছিল করছে, যা উদ্বেগজনক। বিরোধী মতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তবে ‘চব্বিশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা’ এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করবে এবং প্রত্যাখ্যান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সংঘটিত এসব হামলার ঘটনায় দেশবাসী হতবাক। 

তিনি প্রত্যাশা করেন, বিএনপি তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহিংসতার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের জনগণকে সকল ধরনের অন্যায়, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

টিএই/এএইচ