নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তার মতে, ‘এ রাজনীতি থেকে সবাই মিলে সরে না এলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
মঞ্জু আরও বলেন, ‘সমলোচনা করতে গিয়ে অরাজনৈতিক অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি কারও কথার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা, চক্ষু উৎপাটন এবং গাড়ি ভাঙচুর মোটেও কাম্য নয়। এগুলো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।’
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ফেনী জেলা এবি পার্টি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পার্টির চেয়ারম্যান।
দলের জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্যসচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় মিজান রোডস্থ দলের জেলা কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ নিয়ে নানা হতাশার বিষয়ে আলোকপাত করে মঞ্জু বলেন, ‘প্রত্যকে সংগ্রামেরই সফলতা ও ব্যর্থতার দিক থাকে, জুলাইয়েরও আছে। সফলতার ভাগ যারা দাবি করবেন, ব্যর্থতার দায়ও তাদের নিতে হবে। জুলাই যাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছে, আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়ভার তাদেরই বেশি।’
তার প্রশ্ন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকা তারেক রহমানকে যারা দিনের পর দিন কুলাঙ্গার, দুর্নীতির বরপুত্র ইত্যাদি বলে গালি দিয়েছেন এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পঙ্গু করে দিয়েছিলেন, তাদের অপরাধ বেশি, নাকি যারা ক্ষমতায় আসিন তারেক রহমানকে তাদের ভাষায় কুরুচিপূর্ণ শব্দে সমলোচনা করছেন, তাদের অপরাধ বেশি?’
মঞ্জুর অভিযোগ, ‘যারা গালিগালাজ ও নির্যাতন নিস্পেষণে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, বিএনপি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল। আর যারা বিএনপির সঙ্গে হাত ও কাঁধ মিলিয়ে তাদের শত্রুদের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন হতে সাহায্য করেছে, আজ তাদের বিরোধীতাকে বিএনপি সহ্য করতে পারছে না, তারা তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ও প্রতিশোধ পরায়ণ।’
সার্বিক পরিস্থিতিকে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি পতিত ফ্যাসিবাদের আস্ফালন মোকাবিলায় জুলাইয়ের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বানও জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মোহাইমিন তাজিম বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণেই একই জনপদের মানুষ হয়েও তারা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি করে। এদেশে আমরা আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি।’
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন আমাদের বাংলাদেশের একটি নতুন অধ্যায়ের রচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিবাদ সরকার বাংলাদেশের মসনদ দখল করে ছিল। জুলাই আন্দোলন চলাকালে খুনি শেখ হাসিনা পাখির মতো গুলি করে আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয় হয়েছে। বিশেষ করে এই ফেনী জেলায় নিজাম হাজারি নামক একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের কবর হয়েছে।’
এসময় আরও বক্তব্য দেন- জেলা জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রশিদ মজুমদার, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মো. সাইফ উদ্দিন, এনসিপির সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, জাতীয় ছাত্রশক্তি ফেনী জেলা আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন শাকিল, ‘নিরাপদ সডক চাই’ আন্দোলনের সভাপতি জিয়া উদ্দিন, শহীদ কাউসারের বাবা মাওলানা আনোয়ার হোসেন, এবি পার্টির পৌর সদস্যসচিব রিজওয়ানুল খায়ের, এবি যুব পার্টি ফেনী জেলা সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ, শহীদ শ্রাবনের পিতা নেছার আহমদ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টি ফেনীর যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দফতর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ অম্লান, সহ-দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডলি, সদর আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবু সাইদ খান, যুগ্ম সদস্যসচিব রোটারিয়ান সবুজ, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শফিউল্যাহ পারভেজ, ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক নুসরাত জাহান প্রমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুয়াজ মুবাসসির ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
এএইচ