জেলা প্রতিনিধি
২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত আটটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।
মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামি মোট ১১ জন। এছাড়া আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এর আগে হামলার প্রতিবাদ, মামলা দায়ের এবং আহতদের খোঁজখবর নিতে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিক স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।
এদিন বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয়। দীর্ঘ সময় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেও অগ্রসর হতে না পেরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যেই চলে তাদের অবস্থান কর্মসূচি।
এসময় সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, আহতদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। তিনি জানান, তারা হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা করবেন, তারপর ঢাকায় ফিরবেন।
নাহিদ অভিযোগ করেন, মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত পথে কয়েক দফায় বালুবাহী ট্রাক, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে মিরপুর এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
তিনি বলেন, প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিতসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে শুধু মামলা করতে এবং আহতদের দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাদের সেই সুযোগ দেয়নি।
অন্যদিকে হাসনাত পুলিশ সদস্যদের ওপরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আমরা মামলা করার জন্য হবিগঞ্জে যাচ্ছি। আপনারা কেন বাধা দিচ্ছেন?’ এছাড়া গতকাল হামলার সময় আপনারা কোথায় ছিলেন- এমন প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এর জবাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নাহিদ ইসলামদের জানান, ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জে এই মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তাই গাড়িবহর নিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে না।
শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপির নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।’
তবে শেষপর্যন্ত হবিগঞ্জে যান এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং মঙ্গলবারের হামলায় ঘটনায় ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাও করলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রদলও। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়াতে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রতিনিধি/এএইচ