Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা বিক্রির সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক: ন্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি করপোরেশনের আওতাধীন ১৩টি চিনিকলসহ মোট ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির উদ্যোগকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা ঢালাওভাবে বিক্রির উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন ‘বানরের পিঠা ভাগ’-এর মতো ভাগ-বাটোয়ারার আয়োজন করা হচ্ছে। জনস্বার্থবিরোধী এ সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১০ হাজার একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুনর্বিনিয়োগ, পুনর্গঠন, পুনঃউন্নয়ন, ইজারা, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, যৌথ উদ্যোগ কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্বের নামে দেশি-বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ মূলত জনগণের মালিকানাধীন রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর করপোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এ ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য মোটেও সুখকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরও বলেন, সরকার এ উদ্যোগকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে অনুসৃত উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণ নীতির ধারাবাহিকতা ছাড়া কিছু নয়। 

তার দাবি, রাষ্ট্রকে উৎপাদন ও শিল্প পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়ে কেবল বেসরকারি পুঁজির পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যে নীতি অতীত থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে, বর্তমান উদ্যোগও তারই অংশ।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ভূমি ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। এগুলো শুধু বর্তমান প্রজন্মের নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও জাতীয় সম্পদ। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সাময়িক আর্থিক লাভ বা বিনিয়োগ আকর্ষণের অজুহাতে এসব সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

বিবৃতির শেষাংশে ন্যাপ মহাসচিব জাতীয় সম্পদ, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করারও আহ্বান জানান।

এম/এএইচ