জেলা প্রতিনিধি
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুলের বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, বিএনপির মদদে এই হামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মদদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের বাসায় একদল সন্ত্রাসী ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের বাসায় এহেন কাপুরুষোচিত হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। আমি হামলার সঙ্গে জড়িত ও উস্কানিদাতাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের এক মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি ভারতের হায়দ্রাবাদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমন একজন মানসিক রোগীর কোনো আচরণকে কেন্দ্র করে (যা ইতোমধ্যে মীমাংসিত ইস্যু) এহেন হামলার ঘটনা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া নিজের মেয়ের অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে সংসদ সদস্য ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও ‘মবকে’ উসকে দেওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই দুর্বৃত্তায়ন কিংবা ‘মব’ করে জামায়াতকে বিতর্কিত করতে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব টার্গেটেড অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত।
ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ এবং নাগরিকদের বিভ্রান্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত সেক্রেটারি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কয়েকশ নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় তিন ঘন্টা পর পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ।
জানা যায়, শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসূলের বাড়ি সংলগ্ন আল মাদরাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সোমবার সকালে এমপির মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীকে মারধর করেন।
সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে মীমাংসা হয়। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসা খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফের বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা এমপির বাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল মারেন। এতে বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।
বিক্ষোভকারী রবিউল অভিযোগ করেন, মাদরাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হলে দ্বিতীয় তলা থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এএম/এএইচ