Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন খতিয়ে দেখার আহ্বান জেডিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে হামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ হলে সেই পরিস্থিতির রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে আওয়ামী লীগ। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি এনসিপির এক সভায় হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। অতীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি ছিল। তবে নতুন বাংলাদেশে সেই চর্চার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

নাঈম আহমাদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের সহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনসিপিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের যোগদানের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাঁদের কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কিছু নেতার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জেডিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, প্রতিশোধমূলক বা সহিংসতাপূর্ণ বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না। বরং এসব বক্তব্য পুরোনো সংঘাতনির্ভর রাজনীতির প্রতিফলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে জেডিপি। নাঈম আহমাদ বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এমন অভিযোগ এসেছে যে এসব অস্ত্রের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রও থাকতে পারে। এ ছাড়া ওই ঘটনার অজুহাতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া বা নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।

তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরের কোনো অসাধু চক্রের সহযোগিতা, গাফিলতি বা যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। তাই বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।

ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়েও সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে কালেমাখচিত পতাকা উত্তোলন অনেক ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত হলেও ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে কোনো মহল যেন নাশকতার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, সরকারের আশ্বাসের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইনে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, নির্বাহী পর্ষদ সদস্য ফুয়াদ জামান, শেহনাজ রশীদ খান এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এআর