Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেসরকারি বিনিয়োগ বন্ধের দাবি সিপিবির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সরকারের এই উদ্যোগ বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক নির্বিচারে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আওতাধীন ৪৪টি শিল্প সম্পদ উন্মুক্ত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে সিপিবি। 

তারা বলছে, ‘দেশের বিপুল শিল্প সম্পদ পাইকারিভাবে নিলামে তোলা হয়েছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বিলিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলে সিপিবি।

দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বিবৃতিতে বলেন, ‘১০ হাজার একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প সম্পদকে ‘বিদ্যমান শিল্প সম্পদে পুনঃবিনিয়োগ’, ‘পুনর্গঠন ও পুনঃউন্নয়ন’, ‘ইজারাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারাভিত্তিক ব্যবস্থা’, ‘যৌথ উদ্যোগ’, ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ইত্যাদি নামে দেশি-বিদেশি বেসরকারি পুঁজির জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ মূলত জনগণের মালিকানাধীন সম্পদের ওপর করপোরেট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।’

নেতারা বলেন, সরকার এই উদ্যোগকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণ নীতিরই ধারাবাহিকতা। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং দেশি-বিদেশি বড় পুঁজির চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে উৎপাদন ও শিল্প পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়ে কেবল বেসরকারি পুঁজির সুবিধা দাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ তারই বহিঃপ্রকাশ।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান মানেই লোকসানি, অদক্ষ ও অকার্যকর। বাস্তবতা হলো- পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না করা, আধুনিকায়ন থেকে বঞ্চিত রাখা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা এবং নীতিগত অবহেলার মাধ্যমে বহু রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’

‘এরপর সেই সংকটকেই অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার নয়; বরং রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের ধাপে ধাপে বেসরকারীকরণের নীতি।’

এএম/এএইচ