নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানের অবনতি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ কমছে, শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে না, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রশাসনের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত ৩৬তম কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন ঢাবি শাখার সভাপতি দূর্জয় ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও শিক্ষা নেতৃত্বের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হলেও বর্তমানে শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নানামুখী সংকটে পড়েছে। টিএসসি এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশন চালুর পর অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম ও যানবাহনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ফুটবল বিশ্বকাপ প্রদর্শনের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতায় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটি সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে এক নারীকে হেনস্তার ঘটনার উল্লেখ করে বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল না থাকায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানানোরও সুযোগ পাচ্ছেন না। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানানো হয়।
বাজেট প্রসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক হাজার ৩৩ কোটি টাকার বেশি বাজেট অনুমোদন হলেও গবেষণা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশের কাছাকাছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি থেকে সরাসরি গবেষণা তহবিল না দেওয়ায় গবেষণা কার্যক্রম আরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেতারা। তাঁদের দাবি, বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন নির্বাচনের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবছর একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় গঠনতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন অভিযোগ করে, আবাসনসংকট, অস্বাস্থ্যকর ক্যানটিন, নিরাপদ পানির অভাব এবং বিভিন্ন ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিভাগ একীভূত করার উদ্যোগেরও বিরোধিতা করে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিল, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন, করপোরেট প্রচারণা বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, মানসম্মত ক্যানটিন চালু, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং বিভাগ একীভূত করার উদ্যোগ বাতিলসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরে।
দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন বলেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এমএইচ/এআর