নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ইসলামী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নবনিযুক্ত মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে দেশ গঠনের আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন আরও শানিত শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। রাজনৈতিক সংস্কার, ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যমে কাজ করবে।
সোমবার (২৯ জুন) দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলেন আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও দলটি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।’
আতাউর রহমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে এবং ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত হবে। কিন্তু নির্বাচনের পর জাতি অনেক ক্ষেত্রেই আশাহত হয়েছে। সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে কার্যকর আলোচনা না হয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জন এবং দলীয় বিরোধের চর্চা বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’
দেশের বর্তমান বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইসলামী আন্দোলনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাজনৈতিকভাবে আরও দক্ষ ও সুসংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই নতুনভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে।’
নবনিযুক্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় দলের প্রেসিডিয়াম, মজলিশে শুরা এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ১৯৮৭ সালে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, দ্বীনদার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে যে সংস্কারমুখী রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য একটি বড় আমানত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, দেশকে সুখী-সমৃদ্ধ করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত। ইসলামের সৌন্দর্য ও মূল্যবোধ সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠায় তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
এমআর/এএইচ