নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আমরা গুমের শিকার পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি। গুমের যথাযথ শাস্তি চাই। প্রতিশোধ নয়, আমরা গুমের বিচার চাই।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চারস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে গুম করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মীকে শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে গুমের শিকার হতে হয়েছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই এই নির্মমতা চালানো হয়েছিল।
গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা তীব্র হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেছি, গুম কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছি। তবে সময়ের সাথে সাথে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ফিকে হয়ে আসলেও, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এখন আমি সংসদে ও বিভিন্ন ফোরামে এই গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে কথা বলতে পারছি।
বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে তাহসিনা রুশদীর লুনা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সরকার যেভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতার ব্যবস্থা করেছে, একইভাবে গুম হওয়া সংকটাপন্ন পরিবারগুলোর জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি রাষ্ট্র কর্তৃক তাদের কষ্টের একটি স্বীকৃতি এবং সম্মান। আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি এবং তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে লুনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন তার ওপর হওয়া অতীতের নির্যাতনের প্রতিশোধ চান না, আমরাও কোনো প্রতিশোধ চাই না। কারণ প্রতিশোধ নিলে আমরা আমাদের স্বজনদের ফিরে পাব না। কিন্তু আমরা বিচার চাই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যদি কঠিনতম বিচার না হয়, তবে ভবিষ্যতে আবারও কোনো পরিবারকে এমন নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে হওয়া কিছু অপপ্রচারের স্পষ্ট জবাব দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সংস্কারের জন্য রাখা হয়েছে, যার মধ্যে গুম ও মানবাধিকার আইনও রয়েছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে আমরা এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। গত মাসের ১৭ তারিখেও মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ও সাংবাদিকদের নিয়ে এই আইনটিকে কীভাবে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বাজেট অধিবেশনের পরবর্তী অধিবেশনেই গুম ও মানবাধিকার বিরোধী এই শক্তিশালী আইনটি সংসদে পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এসএইচ/এফএ