নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীজুড়ে সরব ভূমিকা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়তি সতর্কতায় পুলিশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২, শাহবাগ, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার ও গাবতলীসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ঘুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী থেকে গতকাল রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রাজধানীর রমনা থানা থেকে ২ জন, শাহবাগ ১ জন, ধানমন্ডি থানা ২ জন, হাজারীবাগ ২ জন, বংশাল ১ জন, সূত্রাপুর ১ জন, পল্টন ১ জন, তেজগাঁও ২ জন, শিল্পাঞ্চল ১ জন, মিরপুর ৩ জন, পল্লবী ১ জন ও কাফরুল ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর ১২টি থানার অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সর্বমোট ১৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। এছাড়া কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারসহ পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট ডিউটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পুরো রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আগাম নাশকতা বা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ রাখা হয়েছে, যেন ডাক পাওয়া মাত্রই তারা অ্যাকশনে যেতে পারেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও ফোর্স মাঠে থেকে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। দিনভর রাজধানীর কোথাও তাদের মিছিল কিংবা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে দেখা যায়নি।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগ আজকের মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইছে। তাদের এই পরিকল্পনাকে আমরা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছি। আমি আশা করি, সামনে যে কয়েক ঘণ্টা সময় বাকি আছে, সেই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে থেকে আজ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর পুলিশ সারা দেশে নজরদারি বাড়ায়। রাজধানীতে কড়া পাহারায় রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদস্যরা।
একেএস/এআর