images

রাজনীতি

প্রতিরক্ষা-কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান। তার মতে, বর্তমান সামরিক বাজেট ও প্রতিরক্ষা নীতি দেশের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একই সঙ্গে কৃষিখাতও পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশ বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যয় হয়। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ খুবই সীমিত। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে সামগ্রিক বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এ ছাড়া কৃষি ভর্তুকির বড় অংশ প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির সমালোচনা করে ড. মিজানুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় আয়সীমার সামান্য বৃদ্ধি জনগণকে তেমন স্বস্তি দেবে না। বরং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে অনেক করদাতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে এক বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। একইভাবে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও চ্যালেঞ্জিং।

ড. জুবায়ের বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে মুদ্রার প্রবাহ বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলবে। এ ছাড়া এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তব সক্ষমতার মধ্যেও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তিনি রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

এমআর/এআর