images

রাজনীতি

বাজেটকে ‘গণবিরোধী ও লুটপাটের ছক’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১১ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘গনবিরোধী ও লুটপাটের ছক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাজেট ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এই কর্মসূচি পালন করে দলটি।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট এলাকায় মিছিল-পূর্ব সমাবেশে নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়াবে এবং এটি ধনী ও দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দলীয়কর্মী পালনের বাজেট উপস্থাপন করেছে।” তিনি দাবি করেন, এই বাজেট ‘গনবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট’, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ঋণনির্ভর এবং এতে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ দলীয় লোকজনের মাধ্যমে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি এবং পুরোনো অর্থনৈতিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।

আযাদ অভিযোগ করেন, বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে দলীয় স্বার্থে এবং ‘ধনী বান্ধব’ নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে এটি আরও জনবান্ধব হতে পারত।

তিনি আরও দাবি করেন, বাজেটের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে, ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, উচ্চ কর আদায় ও পরোক্ষ কর বৃদ্ধির চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ও ব্যাংকিং খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিকল্প বাজেটের কথাও উল্লেখ করেন, যা বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় আকারে ছোট এবং ‘জনকল্যাণমুখী’ বলে দাবি করেন। তার মতে, দলীয় প্রভাবমুক্ত বাজেট প্রণয়ন করা হলে জনগণের স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব।

jamayat-

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব না হয়ে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধাভোগী হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশার বিপরীতে সরকার পুরোনো ধারার বাজেট উপস্থাপন করেছে, যা জনগণের শোষণকে আরও তীব্র করবে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বাজেট সংশোধন করে ‘জনবান্ধব বাজেট’ ঘোষণার দাবি জানান।

টিএই/এআর