images

রাজনীতি

চাঁদা না পেয়ে টর্চার সেলে আটকে যুবদল নেতার নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বাস কাউন্টারের চাঁদার টাকা না পেয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে গোপন টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতা। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী যুবক মো. রোকন মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‎শুক্রবার (৫ মে) সকালে মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী যুবক।

‎অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদার ওরফে নাক্কা সোহেল ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়েবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় কমিশনের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ রুটের পরিবহনের টিকিট বিক্রি করেন ওই ভুক্তভোগী। টিকিট প্রতি পাওয়া কমিশন দিয়ে তার সংসার চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সোহেল নিজেকে মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে প্রতি সপ্তাহে চাঁদা দাবি করে আসছে। এতে বাধ্য হয়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হতো ভুক্তভোগী রোকনকে। 

বর্তমান সময়ে ওই যুবদল নেতা এতটাই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে যে, চাঁদা না দিলে তুলে নিয়ে তার ব্যক্তিগত টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতন চালায়। তার অত্যাচারে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। সে তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রায়েরবাজার এলাকায় চাঁদা তুলছে।

‎লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, গত ৪ মে আমার কাছে আবারও চাঁদা দাবি করে সোহেল। আমি চাঁদা দিব না বললে যুবদল নেতা আমাকে কাউন্টার থেকে রায়েরবাজার মেকাপখান রোডে একটি সিএনজির গ্যারেজে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় প্রতিকার পেতে পুলিশের ধারস্ত হয়েছি।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী রোকন বলেন, রায়েরবাজার এলাকায় থাকি। রায়েরবাজার থেকে কিশোরগঞ্জের চামড়া বন্দর রুটে চলাচল করা দুটি বাসের টিকেট কাউন্টার চালাই। কাউন্টার থেকে সোহেল নিয়মিত চাঁদা নিতো। ঈদের পরে টিকিট বিক্রি করতে পারি নাই। তাই টাকাও দিতে পারিনি। আর এতেই সে আমাকে গ্যারেজে নিয়ে নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিয়েছে। অথচ প্রতি মাসে আমি তাকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিতাম।

‎এ দিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রাজের আপন বড় ভাই সোহেল। আগস্টের যুবলীগ ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিলো। ২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পরে যুবদল নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচয় দেওয়া শুরু করে। রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে দোকান ও সিএনজি গ্যারেজ বানিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

‎চাঁদা দাবি ও তুলে নেওয়ার ঘটনায় জানতে সোহেলের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

‎ভুক্তভোগী রোকনের অভিযোগ তদন্ত করছেন মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলি। তিনি বলেন, অভিযোগের কাগজ এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎একেএস/ক.ম