images

রাজনীতি

সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।  বুধবার (৩ জুন) রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। 

আইভির বিরুদ্ধে করা ১২টি মামলার জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কারাগার থেকে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতান। 

কারা সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে বের হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার মুক্তির খবরে কারাগারের বাইরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। 

আইভির বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ মে ১০টি মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।  

এর আগে হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিলেন। ওই আদেশ বহাল থাকায় তার মুক্তির পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়। বাকি দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে ১৭ মে আপিল বিভাগ ওই দুই মামলাতেও হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন। ফলে আইভীর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন কার্যকর হওয়ায় তার মুক্তির আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে তখন জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। 

এদিকে আইভীর সম্ভাব্য মুক্তির খবরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। 

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। লিভ টু আপিলগুলো খারিজ করে ১০ মে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ফলে পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকে।

তবে প্রথম দফার ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আইভীকে আরও পাঁচ মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা।

দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল ১০ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ আইভীর জামিনে ইতিপূর্বে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল (জামিন প্রশ্নে) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল হয়।

ক.ম/