জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩১ মে ২০২৬, ১০:২২ পিএম
জামায়াতে ইসলামী বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতো জোরপূর্বক চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের জিম্মি করা কিংবা পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে না বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
রোববার (৩১ মে) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রিজভী জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ‘ইয়ানত’ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জামায়াতের ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইয়ানত’ কোনো চাঁদাবাজি নয়, এটি একটি পবিত্র আমানত। জামায়াতের সকল স্তরের জনশক্তি স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে প্রতি মাসে সংগঠনের তহবিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন। এটি কোনো জোর-জবরদস্তির বিষয় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং একটি কল্যাণকামী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কর্মীদের আত্মত্যাগের বহিঃপ্রকাশ।
জুবায়ের বলেন, রিজভী ‘ইয়ানত’-এর মতো একটি নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক ব্যবস্থাকে ‘হাদিয়াবাজি’ বা ‘ইয়ানতবাজি’ বলে আখ্যায়িত করে ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে অপমান করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘জোরপূর্বক চাঁদাবাজির সংস্কৃতি জামায়াতের নয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা জোর করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতো জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করা কিংবা পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার কোনো ইতিহাস জামায়াতের নেই।’
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। কোনো পর্যায়ের কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে দল তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো সংগঠনকে দায়ী করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, দেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং তারা জামায়াতে ইসলামীর সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে ভালোবাসে। জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও জনবিচ্ছিন্নতা আড়াল করতেই বিএনপি নেতা এ ধরনের মনগড়া ও কাল্পনিক বক্তব্য দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বিএনপির মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রুহুল কবির রিজভীকে এ ধরনের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী।
টিএই/এআর