images

রাজনীতি

বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি: গোলাম পরওয়ার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কখনো কখনো বাজেট লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরামের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জাতীয় বাজেট ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিরোধী দল শুধু সংসদে কথা বলেই দায়িত্ব শেষ করবে না, দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলকে সমান ভূমিকা রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে নীতিগত ও আদর্শিক দায়িত্ব পালনে বরাবরই অটল রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো আগামীতেও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। কিন্তু বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, আসন্ন বাজেট যাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার হতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, তেলা মাথায় তেল দেওয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যত বাজেট হয়েছে, প্রায় সবই ছিল ঋণনির্ভর। ঋণনির্ভর বাজেট দিয়ে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যেখানে জনগণের করের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ট্র্যাডিশনাল বাজেট পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, যারা বাজেট তৈরি করেন, তারা অনেক সময় বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন না। রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে সর্বজনীন বাজেট তৈরি করতে হবে, যার লক্ষ্য হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া উন্নত দেশের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দুর্নীতিমুক্ত হতে না পারলে বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির পরিমাণও বাড়বে। বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাখতে হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম. খবিরুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ডেইলি স্টারের রাকায়েত উল্লাহ মৃধা, সিপিডির পরিচালক (অতিরিক্ত গবেষণা) তৌহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক লুৎফর কবির সাদী ও এসএ টিভির নিউজ এডিটর সালাহউদ্দিন বাবলুসহ অনেকে।

টিএই/এআর