নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মে ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
দেশে চলমান হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণআতঙ্ক থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করে সরকারের কার্যকারিতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের তিন মাস-প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, রামিসাসহ গত কয়েক দিনে হত্যা, ধর্ষণ ও পৈশাচিকতার শিকার হয়েছেন অনেকে। মক্তব ও মাদরাসাতেও এমন বর্বর ঘটনা ঘটছে, যা সমাজকে গভীরভাবে আহত করছে।
তিনি বলেন, ধর্ষণের সঙ্গে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, আইনি দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা জড়িত। অপরাধীরা প্রায়ই রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের রক্ষা করতে চায়। তাই রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা বলেন, শাহ আলী মাজার ভাঙচুর কিংবা কুষ্টিয়ায় মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার মতো ঘটনাও উদ্বেগজনক। অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের বর্বরতা প্রত্যাশিত ছিল না। এসব ঘটনায় সরকারের উচিত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া।
সরকারকে মূল্যায়নের জন্য তিন মাস যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, রাতারাতি কোনো সরকার ম্যাজিক দেখাতে পারে না। তবে জনগণ সরকারের কার্যকারিতা দেখতে চায়। সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তিনি বলেন, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে ঐক্য ধরে রেখে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার সামনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণের ঐক্যই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সাইফুল হক আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিরোধী দলে গেলে বিএনপি যে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করবে, এখন থেকেই সেই ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা উচিত। নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্য আনারও আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএইচ/এএস