images

রাজনীতি

হঠাৎ কেন হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা?

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময় তার রাজনীতিতে ফেরা না ফেরার প্রশ্ন আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে 'শিগগিরই' দেশে ফিরবেন বলে শেখ হাসিনার যে বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে, তাতে নতুন করে এই আলোচনা সামনে এসেছে। যদিও নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে এবং দলটির নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে।

একইসঙ্গে চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে শেখ হাসিনার। এছাড়া একাধিক দুর্নীতির মামলাতেও তার সাজা রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা অথবা নতুন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু কতটা চ্যালেঞ্জের?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।

নাছিম বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালের সমস্ত কার্যক্রমকে অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্টের পরে যত রায় হয়েছে, অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে ফাঁসির যে আদেশ দিয়েছে সেই আদেশসহ সকল রায় অনতিবিলম্বে গণতন্ত্রের স্বার্থে বাতিল করতে হবে।’ 

Sheikh_Hasina_angry
শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি) 

 

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক একজন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেই পোস্টকে ঘিরেও এই আলোচনা আরো বেড়েছে। 

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের মাধ্যমে অর্থাৎ নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়নি। ফলে শেখ হাসিনা অথবা তার দল উভয়েরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকার তো আইন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। মানুষ তো আর ভোট দিয়ে হাসিনাকে রিজেক্ট করে নাই, কারণ তারা ভোটে সেটা করার সুযোগই পায়নি। ফলে ওইখানে একটি দুর্বলতা রয়ে গেছে। যতদিন জনগণের এই সমর্থন আছে, ততদিন শেখ হাসিনার কামব্যাক করার সম্ভাবনাটা থেকেই যায়।’  

শেখ হাসিনা কি ফিরতে পারবেন? 
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবেও সেসময় তাদের নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এমন প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি।

Hasina-768x479
শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি) 

 

আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আবার ঝটিকা মিছিল করে সক্রিয় হওয়ার এক ধরনের চেষ্টা দৃশ্যমান হচ্ছে।

এপ্রিলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ও সরকারের কাছে চিঠি পাঠান কক্সবাজারের প্রায় পৌনে ২০০ আইনজীবী। 

এরই মধ্যে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে ইমেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার তার ফেরার কথা বলেছেন। 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; মাথা উঁচু করে গণতন্ত্রে ফেরা আওয়ামী লীগের নৈতিক দায়িত্ব। 

নাছিম বলেন, এটিই সমগ্র জাতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা, সেটা হলো, প্রতিশোধ নয় বরং আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে তিনি নিশ্চিত করতে চান। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার সমস্ত কিছুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান।  

Hasina_angry
শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি) 

 

তবে আওয়ামী লীগকে বাদ রেখেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে পুনর্গঠনের বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন নাছিম। তিনি বলেন, ‘এই আদালতকে আমরা প্রত্যাখান করেছি, এই কোর্টকে বাংলাদেশের মানুষও প্রত্যাখান করেছে। সেই আদালতে শেখ হাসিনা যেতে চান, যেখানে আইনের শাসন থাকবে। যেখানে ন্যুনতম স্বাধীন, সার্বভৌমভাবে আদালত কাজ করতে পারবে।’ এই আওয়ামী লীগ নেতা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরের সব রায় বাতিলের দাবি জানান।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এই দলটিকে সমর্থন করে। আওয়ামী লীগ ভোটের রাজনীতিতে নয়, বরং নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ হওয়ায় জনসমর্থনেই তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা থেকে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো বলতে পারবে আমাদের তো জনগণ প্রত্যাখ্যান করে নাই। সেই সুযোগই দেওয়া হয়নি, নির্বাচনে দাঁড়াতে দাওনি তোমরা। এর আগে, নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তারা ফিরে আসছে, সুতরাং আওয়ামী লীগও ফিরে আসতেই পারে।’ 

প্রসঙ্গত, এর আগে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ যদি চায় শেখ হাসিনাকে নিয়েই দলটি 'কামব্যাক' করবে, সেক্ষেত্রে তারা জনসমর্থনেই রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। তবে কীভাবে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ফিরবে সেটি বলা মুশকিল বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক।

‘পর্দার আড়ালে তো অনেক কিছুই ঘটে, আমরা সেটা বাইরে থেকে জানি না, বুঝি না। হয়তো অনেক পরে জানতে পারবো’ বলেন মহিউদ্দিন। 

একইসঙ্গে চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকায় আইন অনুযায়ী তাকে আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আইনানুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমপর্ণ করলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও খালাস হয়ে যাওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৫৩-৫৪ সালে মাওলানা মওদুদীর ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। পরে এটা মওকুফ হয়ে যায়। রিসেন্ট নজিরও আছে।’ 

নির্বাচিত বিএনপি সরকার বারবারই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলে আসছে। তবে শেখ হাসিনার নিজ সিদ্ধান্ত এবং ভারত ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রেক্ষাপট তৈরি হলেই কেবল বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কী বলছে বিএনপিসহ অন্যান্য দল?
কেবলমাত্র চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্যই বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ফিরে আসতে হবে- বলছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

image
রুহুল কবির রিজভী 

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে নির্বাহী আদেশ, সেটি বাতিলে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই, কোনো সিদ্ধান্তের কথা শুনিওনি বা প্রকাশ্যেও বিষয়টি আসেনি।’ 

‘বিচার চলছে, বিচারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। দুই-একটি বিচারের রায় হয়েছে, সেই বিচার প্রক্রিয়ায় যদি মুখোমুখি হতে পারেন, আসতে পারেন। একটা রায় হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, আরো অসংখ্য অপরাধের বিচার চলছে। বিচার মোকাবিলা যদি উনি করতে পারেন, তাহলে যে কোনো ফ্লাইটে আসতেই পারেন।’ বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। 

এদিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করেছি। এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তি অনুসারেও অনুরোধ করেছি- আমরা শেখ হাসিনাকে ফেরত চাই। এবং আমরা চাই তিনি মামলা ফেস করুক। এখন যদি কেউ বলে আসতে চায়, আমরা তো তাকে (শেখ হাসিনাকে) চাচ্ছি।’  

image
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরলে আগে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। যদিও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রম কমপক্ষে চারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্ইব্যুনাল গঠন করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার করেছিল।

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পরে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। আর এই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মনে করেন, শেখ হাসিনাকে আগে সাজা ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করার কোনো সুযোগ এদেশের জনগণ তাদের দেবে না। যেহেতু তারা ফ্যাসিবাদ এবং ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করে নেবে না।’ 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলছেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতায় আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এটাও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল তিনটি- সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এই তিনটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আওয়ামী লীগ এখনো এক্সিস্ট করে।  

image
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে পাটওয়ারী বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগ দল হিসেবে আসতে হয় তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং সেই বিচারটা তাদের ফেইস করতেই হবে। তারা রাজনীতি শুরু করতে পারবে কি না, বিচারের কাঠগড়ায় সেটার রায় আসবে।’ 

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিকাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হল এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হল। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামাত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’ সামাজিক মাধ্যমে মাহফুজের এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। -বিবিসি 

ক.ম/