images

রাজনীতি

বাজেটে সর্বদা শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার: অধ্যাপক মুজিবুর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের ইতিহাসে শ্রমিকরা সবসময় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে বলে মন্তব্য সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪টি বাজেটেও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি।’

এবারের বাজেটে সেই বৈষম্যের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট হলো প্রশাসক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি, যা জাতীয় সংসদে পাস হয়। অথচ বাস্তবে বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করা হয় না এবং শ্রমকল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত সীমিত থাকে। তার মতে, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাজেট কখনোই পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। তিনি আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবারও যদি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়, তাহলে তা বৈষম্যের ধারাবাহিকতাকেই আরও দীর্ঘায়িত করবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলাম শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত পরিশ্রমের মর্যাদা স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকের যথাযথ সম্মান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম। সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৫৪টি বাজেট পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দও নিশ্চিত হয়নি, যা সংবিধানের মৌলিক অধিকারবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগ এখনো রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে শ্রম মন্ত্রণালয় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে, অথচ প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ জরুরি বলে তিনি মত দেন।

সভায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ, দফতর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মতামত ছাড়া বাজেট প্রণয়ন একপাক্ষিক হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সভায় অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে জাতীয় গার্মেন্টস ঐক্য জোটের সভাপতি মোহাম্মদ মেহতাব, প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের নেত্রী মোছা. শামীমা আক্তার, গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রী রাশিদা আক্তার, বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা, কামরাঙ্গীরচর রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বেপারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

সভা থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শ্রমিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।

টিএই/এএইচ