জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৫ মে ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেছেন, অতীতে জনগণের ভোট ‘জালিয়াতির’ মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কৌশল পরিবর্তন করে একই ধরনের অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে এসব কথা বলেন দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে দেশে আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না। যারা নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা গণভোটের রায় মেনে নিতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, নতুন বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা কাউকে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে দেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ রাজপথে নামলে তা কারও জন্য শুভ হবে না। সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
শিক্ষাশিবিরের প্রধান আলোচক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ওপর বহু দমন-পীড়ন চালানো হলেও দলটি জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। অতীতে নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিলেও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে সেই ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতেও জালিয়াতিকারীরা কৌশল পরিবর্তন করে জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এজন্য সর্বস্তরের জনশক্তিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা রয়েছে। এজন্য সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম, পেশাজীবী ও মেহনতি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। মানবিক ও আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবদুস সালাম।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, মজলিসে শূরার সদস্য এবং থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/এফএ