নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, বুকের ধন হারানো পরিবারগুলো যেন মনে করে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং এ দায় থেকে কেউ মুক্ত নয়।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ফুয়াদ এসব বলেন।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এ সংকটকে রাজনৈতিক দোষারোপের হাতিয়ার না বানিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই সম্প্রতি হামের সংক্রমণ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যও একই বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।
ফুয়াদ বলেন, করোনাকালে শহরাঞ্চলের উচ্চবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে হামে আক্রান্ত হচ্ছে মূলত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিশুরা। অপুষ্টি, ভিটামিনের ঘাটতি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
হামের অস্বাভাবিক বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফুয়াদ বলেন, এটি শুধুই স্বাভাবিক সংক্রমণ নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রমে অনিয়ম কিংবা অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন, তথ্য আপলোডে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় হামের টিকাদান কাভারেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি প্রদর্শিত টিকাদান কাভারেজ এবং পরবর্তী মূল্যায়ন জরিপের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। অতীতের অতিরঞ্জিত তথ্যের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়।
ফুয়াদ বলেন, হামের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকেই গেছে। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে। অর্থাৎ তারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। মায়েদের পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকা, অপুষ্টি এবং সমাজে হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতিকে এর জন্য দায়ী করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ডোজ হামের টিকা মজুত রয়েছে এবং জরুরি ‘ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গত ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়। টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ইপিআই কর্মসূচির টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি নিরাপত্তা, মাতৃস্বাস্থ্য ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান ফুয়াদ। তিনি দেশবাসীকে অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকাদান এবং জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/ক.ম