নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
সাংবাদিক জিসাদ ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নাজমুল হাসান রিয়াদকে গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এ সময় আরেক মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নবীন হোসেন আকাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জিসাদ ইকবালের ওপর হামলা করে রিয়াদ।
সোমবার (১১ মে) রাত ১১টায় নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১২ নম্বর রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নাজমুল হাসান রিয়াদ খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকার আবুল হোসেন মাতাব্বরের ছেলে। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিকুঞ্জ, টানপাড়া ও খিলক্ষেত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিকুঞ্জ এলাকায় এ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলো। বিশেষ করে নিকুঞ্জের ১৫ নম্বর রোডে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের আলোচনায় ছিল। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ গ্রেফতারের খবরে নিকুঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করেছে।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, গ্রেফতারকৃত রিয়াদ ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা মামলা ছিল। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন সাংবাদিক জিসাদ ইকবাল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলায় রিয়াদের সাথে তৎকালীন খিলক্ষেত থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহমেদ, রাব্বিসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। হামলায় সাংবাদিক জিসাদ ইকবাল গুরুতর আহত হন।
ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানায় বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে সে সময় খিলক্ষেত থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সাংবাদিক নেতাদের চাপের মুখে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সময় পর সেই ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
একেএস/এআরএম