নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ মে ২০২৬, ১০:২০ পিএম
রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। একই সঙ্গে শাপলা ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য সিপিবি, বাসদ এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত আটটার দিকে শাপলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাদা পাঞ্জাবির মিছিল’-এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
নাঈম আহমাদ বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর পরিচালিত অভিযান এবং সে সময় সংঘটিত ব্লগার হত্যাকাণ্ড—উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে বামপন্থী কিছু সংগঠনের ভূমিকা ছিল এবং এ জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছিল, যা তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী তৎকালীন সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো সংবেদনশীল ইস্যু যুক্ত থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তী সময়ে এটি ইসলামবিদ্বেষী ও ফ্যাসিবাদপন্থী আন্দোলনে রূপ নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
নাঈম আহমাদের ভাষ্য, এই প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হন। কিন্তু সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে তা দমন করে। তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার সম্পর্কে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, তিনি গুপ্ত ছাত্রলীগ হিসেবে কাজ করতেন এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসিনার জোটসঙ্গী ছাড়াও বামপন্থী কয়েকটি সংগঠন ওই সময় এ ধারার রাজনীতিতে সহযোগিতা করেছিল, যার ফলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করা সহজ হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তিনি শাপলার ধারাবাহিকতা বলেও উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে নাঈম আহমাদ বলেন, শাপলা ঘটনার পাশাপাশি সে সময় নিহত ব্লগারদের হত্যার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্লগার হত্যাকাণ্ডগুলোতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলেও সেগুলো পুনঃতদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
তিনি বলেন, ব্লগার হত্যার ঘটনায় কিছু ক্ষেত্রে বিচার সম্পন্ন হলেও শাপলা চত্বরের ঘটনায় তেমন অগ্রগতি নেই। ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ড থাকা উচিত নয়।
বিশেষ বক্তা হিসেবে জাগ্রত জুলাইয়ের সদস্যসচিব মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে জুলাইপন্থী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। ফলে দ্রুত শাপলা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মসূচি থেকে সব ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করা, শাপলা চত্বরে নিহতদের সরকারি তালিকা প্রকাশ, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং ধর্মবিদ্বেষী কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে জেডিপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রমঞ্চের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এমআর/এআর