নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ মে ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
বিএনপির নতুন কোনো সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলের ইতোমধ্যে অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, তাই আর কোনো নতুন সংগঠনের প্রয়োজন নেই।
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এগুলোকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। ‘জিয়া পরিষদ’-এর নামে নতুন করে কোনো সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। বরং জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। জিয়া পরিষদের মাধ্যমে কিছু বই প্রকাশ হয়েছে, তবে তাদের আরো গবেষণামূলক কাজ করা উচিত।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া অনেক কাজ হয় না। গত ১৫ বছরে এই প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই বিভিন্ন পদে যেতে তদবির করেন, যা দুঃখজনক। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া উচিত।
সরকারের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্বে আসার পর চারদিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চোখে পড়ছে, যা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এর প্রতিটি ধাপে বিএনপি যুক্ত ছিল। কিছু বিষয়ে দলটি দ্বিমত পোষণ করেছে এবং নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপি একমত নয় এবং এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সংস্কারের বিরুদ্ধে— এমন প্রচার নিয়ে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিই দেশে সংস্কারের পথ দেখিয়েছে এবং জিয়াউর রহমান প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেন। কিছু মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ সময় ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবী তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিক পথে পরিচালিত না হলে ছাত্র রাজনীতি ভবিষ্যতেও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এএইচ/এফএ