মোস্তফা ইমরুল কায়েস
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
-
আদালতে আহত হওয়ার দাবি
-
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাইয়ে ভিন্ন চিত্র
-
হাসপাতালে যাওয়ার আবেদন নাকচ
সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের আদালতে দেওয়া একটি বক্তব্যকে ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর তৈরি হয় বিভ্রান্তি। আদালতে তিনি দাবি করেন, কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার পথে তিনি বহনকারী প্রিজনভ্যানে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং এতে তার ঘাড়ে আঘাত লেগেছে।
তবে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরে আদালতে দেওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলকসহ চারজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীকে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। পথে পোস্তগোলা সেতু এলাকায় একটি মোটরসাইকেল সামনে চলে এলে প্রিজনভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করে। এতে ভ্যানের ভেতরে থাকা বন্দীদের মধ্যে একজনের সঙ্গে আরেকজনের ধাক্কা লাগে।
কারা সূত্র বলছে, ওই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল করিম চৌধুরীর ঘাড়ে আঘাত লাগে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরে কারাগারে তাকে চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে পলক নিজেও ঘাড়ে ব্যথার কথা জানান এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে আদালত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চায়।
পরে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং কারও গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। মূলত ভ্যানের ভেতরে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
কারা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও যাচাইয়ে প্রাথমিক বিবরণই সঠিক পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় বন্দীদের শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে।
কারা ও মিডিয়া শাখার এআইজি জান্নাত উল ফরহাদ জানান, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ঘটনাটি গুরুতর কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে কারা সূত্রের দাবি, বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করায় পরবর্তী চিকিৎসা অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোয়নি।
এমআইকে/এআর