জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
অশোভন আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার কি বাকস্বাধীনতা—এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, গণমানুষের ভালোবাসার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও অবজ্ঞাসূচক বা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। তাই প্রশ্ন আসে, আমরা বাকস্বাধীনতা বলতে কী বুঝি? অশোভন আচরণ করা কি বাকস্বাধীনতা? অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা কিংবা শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করা কি বাকস্বাধীনতা? প্রপাগান্ডা ছড়ানো, অপপ্রচার করা কিংবা ভিন্ন নাম বা ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থিতি তৈরি করা—এসব কি বাকস্বাধীনতার অংশ?
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে কমল কুঁড়ি আয়োজিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা যে বাকস্বাধীনতার কথা বলছি, সেই বাকস্বাধীনতারও একটি নির্দিষ্ট সীমা ও অর্থ রয়েছে। আমরা বাকস্বাধীনতা বলতে আসলে কী বুঝি? আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই মাসে আমরা দেখেছি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সম্মানী প্রদান, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তিনি যেভাবে প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সত্যিই নজিরবিহীন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, একই সঙ্গে এটিও দুঃখজনক ও নজিরবিহীন যে, একজন সংগ্রামী নেতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত, গণমানুষের ভালোবাসার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও অবজ্ঞাসূচক বা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাকস্বাধীনতা বলতে আমরা সেটাই বুঝি, যা ন্যায্য, ন্যায়সংগত, সত্য ও সঠিক। আমরা আমাদের বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই, আপনারা নিজ নামে, নিজ পরিচয়ে রাজনীতি করুন।
ইতিবাচক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন, গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করুন। অশ্রাব্য কিংবা অশালীন আচরণ কখনোই বাকস্বাধীনতা নয়। বাকস্বাধীনতা মানে মানুষকে সম্মান জানানো। স্বাধীনতা মানে দেশের জন্য কাজ করা, দেশের মানুষের জন্য সত্য, সঠিক ও বাস্তব কথা তুলে ধরা। আমরা বিশ্বাস করি, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা তৈরি করবে। তবে সেই সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মধ্যেও সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব। তাই আমরা বলি, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন একটি ধারণা, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে। বিএনপির রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন রয়েছে এবং ইসলামসহ সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। তাঁর গড়া দল বিএনপি সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করেছে, করবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।
আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সিনিয়র সহসভাপতি শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস প্রমুখ।
বিইউ/এআর