images

রাজনীতি

শাহবাগ থানায় ডাকসুর ২ নেতার ওপর হামলা: যা বললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

মোস্তফা ইমরুল কায়েস

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

    • শাহবাগ থানার গেটে ঢোকা মাত্রই হামলা শুরু হয়
    • ছাত্রদলের একটি মিছিল তখন থানা থেকে বের হচ্ছিল
    • মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক শিপন
    • এটি পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করেন ডাকসুর নেতারা

রাজধানীর শাহবাগ থানার প্রাঙ্গণে ওসির কক্ষের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

কী ঘটেছিল, হামলায় কারা জড়িত—তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করেছে ঢাকা মেইল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হামলার ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ডাকসুর নেতারা থানায় প্রবেশ করেন। ওই সময় ছাত্রদলের একটি মিছিল থানা থেকে বের হচ্ছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জুবায়ের ও মোসাদ্দেকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ঢাবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন উপস্থিত ছিলেন। হামলা চলে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী থানা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে হামলা: সাংবাদিকদের দাবির প্রতি ছাত্রশক্তির একাত্মতা প্রকাশ

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার বিকেলে শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ডাকসুর একটি মিটিংয়ে আছেন, পরে কল করবেন। তবে পরবর্তীতে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলেছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় আটক রাখা হয়—এ খবর পেয়ে ডাকসুর প্রায় ১০ জন নেতা থানার দিকে যান। রাত তখন প্রায় আটটা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ছাত্রদলের একটি বড় মিছিল তখন থানা থেকে বের হচ্ছিল। সেই সময়ই ডাকসুর নেতারা গেটের উত্তর পাশ দিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

এই দলে ছিলেন—এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক জুমা, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি জায়েদ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এজিএস আবদুল মজিদ, ভিপি সাদিক শিকদার, সূর্য সেন হলের ভিপি আজিজুল হক, জিএস মোখলেছুর রহমান জাবির এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফ জাওয়াদ সামী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

সূর্য সেন হলের জিএস মোখলেছুর রহমান জাবির বলেন, এটি পরিকল্পিত হামলা বলে মনে হয়েছে। কারণ শিপনের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়ে আবার ফিরে এসে জুবায়ের ও মুছাদ্দেককে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া সবাই ছাত্রদলের কর্মী ও নেতা। পরে শিপন ও অন্য নেতারা এসে ক্ষমা চান।

কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা বলেন, আমরা থানার গেটে ঢোকার সময় ছাত্রদলের মিছিল বের হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর মিছিলটি আবার ফিরে এসে ‘জুবায়ের ও মুছাদ্দেককে ধর’ বলে হামলা চালায়। আমরা ভয়ে ওসির রুমে ঢুকে যাই। আমাদের সামনেই মারধর চলছিল।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে রাকসুর বিক্ষোভ

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এজিএস আবদুল মজিদ বলেন, কোনো উস্কানি ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের উদ্ধার করতে গিয়ে অন্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আরও একজনকে থানায় এনে মারধর করা হয়। এতে মোট আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

চিকিৎসাধীন ও অসুস্থ

মুসাদ্দিক ও জুবায়েরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাদ্দেক গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলায় প্রতিবাদ জানালেন জকসু ভিপি

মামলা হয়নি, শনাক্তও হয়নি কেউ

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে শনাক্তও করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআইকে/এআর