images

রাজনীতি

বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল চীন সফরে রয়েছে। এই সফরে চীনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হচ্ছে বিএনপি নেতাদের। এসব বৈঠকে চীনের সঙ্গে বিএনপির যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক তা নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর ব্যাপারে দুই পক্ষই সম্মত হয়েছে।   

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেখানে চীনের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। 

বৈঠকের বিবরণ তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গণচীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব হান জেং দলের সঙ্গে গণচীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং-এর দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বেইজিংয়ের আইডিসিপিসি ভবনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-এর সঙ্গে আরেকটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

হঠাৎ কেন বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের আলোচনা?

সভায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৈত্রী দৃঢ়করণের যে সূচনা হয় এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা নতুন উচ্চতায় উন্নীতকরণের বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের “Comprehensive Strategic Cooperative Partnership” দুই দেশের গভীর আস্থা ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।

BNP-China2

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এছাড়া, চীনের সিপিসি এবং বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক সফর এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক মত বিনিময়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মানবিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীনের অব্যাহত সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার সাথে জড়িত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে।

আরও পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা

প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি পরিশোধন প্রযুক্তি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আগ্রহী। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ব্যাটারিসহ হালকা ও মাঝারি শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোবোটিক সার্জারি ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশিত। পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ সুযোগ বৃদ্ধির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

গণচীনের উপরাষ্ট্রপতি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী উভয়ই বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

BNP-China3

উভয় সভায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সংলাপ ‘বাংলাদেশ-চীন’ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

আরও পড়ুন

সরকারের দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে চীনে সফররত বিএনপির প্রতিনিধি দলে আছেন- বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, নজমুল হক নান্নু, বেবি নাজনীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শামসুজ্জামান দুদু, এস এম আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নীলুফার চৌধুরী মনি, বাংলাদেশ জুট ওয়ার্কার পার্টির সভাপতি সায়েদ আল নোমান, মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, মায়ের ডাক-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম, যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ইউনুস আলী, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ আমান, বিএনআরসির রিসার্চ এসোসিয়েট মীর সোলাইমান।

জেবি