images

রাজনীতি

সংরক্ষিত আসনে প্রস্তাব পেলেও যে কারণে সাড়া দেননি তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে সরকারি দল বিএনপি এবং জামায়াত জোট। এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ডা. তাসনিম জারাও। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাবে সাড়া দেননি। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এমন দাবিই করেছেন এই তরুণ চিকিৎসক।

জারা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা হয়েছে। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে লিখেছেন যে আমি সংসদে থাকছি না। আপনাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ। সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি লিখেছেন, ‘সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে আমি বলেছিলাম যে সংরক্ষিত নারী আসন পূরণ হওয়া উচিত জনগণের সরাসরি ভোটে, দলীয় মনোনয়নে নয়। এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি, আপনাদের স্বাক্ষরও নিয়েছি।’

জারা লিখেছেন, ‘এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর ভিন্ন অবস্থান নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। আজ যারা সংসদে যাচ্ছেন, তাদের নিয়ে আমার এই মন্তব্য নয়। তাদের অনেকেই অত্যন্ত যোগ্য মানুষ। আমি তাদের সফলতা কামনা করি।’

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী লিখেছেন, ‘আমার অবস্থানটি সিস্টেম নিয়ে। যিনি জনগণের ভোটে সংসদে যান, তিনি তার ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারেন। যিনি দলীয় মনোনয়নে সংসদে যান, তার কোনো নির্বাচনি এলাকা থাকে না, কোনো ভোটার থাকে না। এটি কোনো ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্ন। মানুষ যার কাছে জবাবদিহি করে, শেষ পর্যন্ত তার স্বার্থই রক্ষা পায়।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা নারী। তাদের প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা উচিত। সংরক্ষিত আসন যদি থাকতেই হয়, সেগুলোও জনগণের ভোটে নির্ধারিত হোক।’

জারা লিখেছেন,‘ আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। মাত্র ১৯ দিনের প্রচারে, পোস্টার ছাড়া, মিছিল ছাড়া, নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা মেনে, ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘নির্বাচনের দিন যে অনিয়ম হয়েছিল, তার দলিল আমরা রেখেছি। ফলাফলও মেনে নিয়েছি। আমি যদি কখনো সংসদে যাই, আপনাদের ভোটেই যাবো। সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব। আমি সেটাই চালিয়ে যাবো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল দলটির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারার। 

কিন্তু এনসিপি জামায়াত জোটে যাওয়ায় তিনি দলত্যাগ করে ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান। 

এএইচ