নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
সরকারের তেলের দাম বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বরী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেশ বৃদ্ধিই হইল।’
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরী জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন এ কথা বলেন।
তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যরা আপত্তি জানান ও হইচই করেন। পরে এ কারণে সরকারি দলের সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রুমিন ফারহানা বলেন, কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বরী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেশ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটার জুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছে, তারা তেল পাচ্ছে না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নাই।
তিনি বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন তখন তারা অবলীলায় বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, যখন তেল নিতে যায় তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।’
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকার সম্ভবত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবার ঘোষণা দিয়েছে। তার একটা হচ্ছে মার্কেটপ্লেস ৭টা বাজে বন্ধ করে দেওয়া। চমৎকার সিদ্ধান্ত মাননীয় স্পিকার। তবে মনে রাখতে হবে কেনাকাটা বা শপিং যেটুকু হয় সেটুকু সন্ধ্যার পরেই হয়। তার আগে হয় না। দুই হলো অফিস আদালতের সময় নাকি পরিবর্তন করবে। পাঁচ দিনের জায়গায় চার দিন বা তিন দিন তারা কর্মঘণ্টা ঠিক করবে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না-ই থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই বা কেন? দামই বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচি সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলা তো ওঠে মাননীয় স্পিকার।’
স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানি মন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নাই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কতদিনের অকটেন ডিজেলের মজুদ আছে, কতদিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?’
রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্য একজন হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। তার বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন।
তখন স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, প্লিজ লেট আস ডিসিপ্লিন আওয়ারসেলফ।’
এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে অ্যালাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আজকে লক্ষ্য করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।’
‘এমনকি আমি এও লক্ষ্য করলাম একবার দুইবার নয় চারবার পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে যারা এসেছেন তাদের কেউ কেউ এই কাজটা করেছে। আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না। তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিন্দা জানান।
এমএইচএইচ/এএইচ