নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা যেমন বেহাত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। তার ভাষায়, একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, আর চব্বিশের আকাঙ্ক্ষা বেহাতের পেছনে কাজ করেছে অনেকগুলো ‘ছায়া মুজিব’।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জনযুদ্ধ থেকে গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও নতুন ধারার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও তিনি অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান। মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর মুজিবনগর সরকারের ঘোষিত তিন মূলনীতি— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিলোপ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ‘ছায়া মুজিবদের’ প্রভাবে পুরোনো রাজনৈতিক ধারাই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদ শব্দটির ব্যাখ্যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মধ্যেও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্লোগানধারীদের একটি অংশ রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কারণে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছে।
নাঈম আহমাদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং দুর্নীতির অর্থ ব্যবহার করে একটি ‘কিংস পার্টি’ গঠনের চেষ্টা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও অনেকেই পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। এরা প্রত্যেকেই একেকজন ছায়া মুজিব।
তিনি মনে করেন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এসব সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ গণআন্দোলনের আগে মতাদর্শিক প্রস্তুতি ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় মুজিবনগর সরকারের প্রেক্ষাপট নিয়ে গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ–এর একটি স্মৃতিচারণমূলক লেখা পাঠ করা হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।
আলোচনা সভায় জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, জহিরুল ইসলাম অমি, সালমান শরীফ, সৈয়দ মাশরুর জিসান ও আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এফএ