নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা করিডোর থেকে উত্তাল রাজপথ-সর্বত্রই যার পদচারণা ছিল, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল ছাত্র সমাজের প্রেরণা, সেই রাফিয়া সুলতানা (রাফিয়া রাফি) আর নেই। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি দুটি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ সেশনের এই লড়াকু শিক্ষার্থী কেবল একটি নাম নয়, বরং বাংলাদেশের সমসাময়িক ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তিনি ছিলেন এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা মৌনতার সংস্কৃতি ভেঙে কথা বলতে শিখেছিল। যখন দেশের রাজনৈতিক আকাশে ফ্যাসিবাদের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, রাফিয়া তখন বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথ। আগ্রাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে এক আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছিল।
ছাত্র পরিষদের ভাষায়, রাফিয়া সুলতানার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় ছিল ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও ভয়ের রাজত্ব যখন চারপাশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তখন রাফিয়া সম্মুখসারিতে দাঁড়িয়ে সেই ভীতিকে জয় করেছিলেন। তার সেই লড়াকু ভূমিকা কেবল একটি অধিকার আদায়ের লড়াই ছিল না, তা ছিল একটি প্রজন্মের আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম।
ছাত্র পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে দীর্ঘ তিন দশক পর অনুষ্ঠিত রোকেয়া হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে তার প্রার্থী হওয়া ছিল দেশের ছাত্ররাজনীতির এক সাহসী মোড়। যে সময় ক্যাম্পাসগুলোতে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছিল, তখন রাফিয়া সুলতানা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে ছিল এক প্রবল রাজনৈতিক ঘোষণা-যে ঘোষণাটি ছিল ক্ষমতার দম্ভের বিপরীতে সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকারের।
‘বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ গভীর শোকের সঙ্গে স্মরণ করছে যে, রাফিয়ার চলে যাওয়া কেবল একজন ব্যক্তির প্রস্থান নয়, বরং এক অপরাজেয় চেতনার সাময়িক বিরতি। তিনি রেখে গেছেন এমন এক সাহসের উত্তরাধিকার, যা আগামীর তরুণদের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিরন্তর অক্সিজেন জোগাবে। রাফিয়া সুলতানা নেই, কিন্তু তার স্লোগানগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হবে। তার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’ মনে করে সংগঠনটি।
ক.ম/