ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ২৩ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালে কুমিল্লা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলী মিয়া এবং মাতা আমেনা বেগম। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা ও রফতানিকারক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে জাতীয় পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পারিবারিক শিক্ষার প্রভাবে তাঁর চরিত্রে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিক্ষাজীবনে তিনি অধ্যবসায় ও বহুবিধ সৃজনশীলতার পরিচয় দেন। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষতা প্রকাশ পায়, যা পরবর্তীকালে ব্যবসা ও রাজনীতিতে তাঁর সাফল্যের ভিত্তি রচনা করে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলীয় রাজনীতিতে তিনি নিষ্ঠাবান ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (২০০১-২০০৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির সহকৃষি বিষয়ক সম্পাদক (২০১০-২০১৬) এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (২০১৬-২০২৫)। এছাড়াও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক (২০২২-২০২৫) এবং সাধারণ সম্পাদক (২০০৯-২০২২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ-লালমাই উপজেলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুমিল্লা-৬ (কুমিল্লা সিটি, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ-এর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বাংলাদেশের ফুটওয়্যার শিল্পের পথিকৃৎ উদ্যোক্তাদের অন্যতম। তিনি লালমাই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। রফতানিখাতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ ১২ বার জাতীয় রফতানি পদক (স্বর্ণ ও রৌপ্য) অর্জন করে এবং তিনি ১৩ বার সিআইপি হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবে চার বার স্বীকৃতি লাভ করে, যা তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য ও স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করে। তিনি লালমাই ফুটওয়্যার লিমিটেড, আরকু ইন্ডাস্ট্রিজ ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, বেবী নিউট্রিশন লিমিটেড, লালমাই ফুড প্রোডাক্টস, অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড (ফাংশনাল ফুড) এবং আরকু ফুডস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজকল্যাণ ও নারীশিক্ষা প্রসারে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত বারপাড়া আমেনা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থানীয় নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইউরোপ-আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বহুবার সফর করেন। আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার, বাণিজ্য মেলা ও বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের পণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি মোছা. তাহমিনা আক্তারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ইফতেখার রশিদ ও এনায়েত রশিদ।
রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ শিল্পোদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও নৈতিকতার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি, সমাজসেবা ও কর্মজীবনে সমানভাবে অবদান রেখে চলেছেন। সূত্র: তথ্য বিবরণী
জেবি