জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
জাতীয় সংসদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব তুলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি মনে করেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে যেগুলো বাতিল (ল্যাপস) করার সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
রোববার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনের কার্যসূচি শুরুর আগে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে এবং স্পিকার তা অনুমোদনও করেছেন।
বিরোধী দলীয় নেতা জানান, কমিটির প্রতিবেদনে যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় সংসদে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্বের নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি, ল্যাপসের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশগুলোর অনেকই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জুলাই স্পিরিট’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।’
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে ডা. শফিক আরও বলেন, সংসদের কার্যসূচিতে ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ শিরোনামে কিছু বিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সম্ভবত অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট। তাই যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী প্রথমে জানান, আলোচ্য দুটি বিল কোনো অধ্যাদেশ থেকে উদ্ভূত নয়, বরং নতুনভাবে মন্ত্রণালয় থেকে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ ল্যাপস হয়েছে বা সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলো পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিল আকারে এনে আরও যাচাই-বাছাই করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।’
তবে আছরের নামাজের বিরতির পর আইনমন্ত্রী তার বক্তব্য আংশিক সংশোধন করে জানান, বিরোধী দলীয় নেতা যে দুটি বিলের কথা বলেছেন, সেগুলো আসলে ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর আবার বক্তব্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশগুলো জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এগুলো সংসদে উপস্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, সব অধ্যাদেশই পর্যায়ক্রমে সংসদে আনা হবে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় পাঠের সময় আলোচনা করার সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিল আকারে উপস্থাপিত দুটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি সেগুলো নিঃশর্তভাবে পাস করার সুপারিশ করেছে।
এদিকে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৯৩টি বিল পাস করার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
টিএই/এএইচ