images

রাজনীতি

জেডিপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে নাঈম-আলিম-আহছান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

জাস্টিস এন্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) তাদের ৯০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক (Social Democracy) নতুন রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। নবঘোষিত কমিটিতে নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক করা হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিষদ গঠন, সংবিধান বাতিল, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জেডিপি স্পষ্টভাবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে জেডিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। উচ্চ আদালতের স্বীকৃত ‘মৌলিক কাঠামো’ তত্ত্বের কারণে সংসদে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও পরবর্তীতে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হিসেবে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নই অধিক যুক্তিসঙ্গত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি গণপরিষদ গঠনে অনীহা প্রকাশ করলেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই সনদের কিছু অংশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা জনগণের মধ্যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন সংবিধানের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গণপরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা সাংবিধানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীদের প্রতিও জনগণের একটি অংশের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

জেডিপি জানায়, সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে ‘সমাজতন্ত্র’-এর পরিবর্তে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশপন্থা’ বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জনমত গড়ে তুলবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করে।

ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দলটি জানায়, দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একই সঙ্গে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা আওয়ামীলীগ–এর নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রেও ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে বিচার প্রক্রিয়া প্রহসনে পরিণত না হয় এবং কারও সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল না করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির আগামী এক মাসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এপ্রিলজুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান, জুলাই গণহত্যা ও শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গণসংযোগ এবং আগামী মে মাসে ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন আয়োজন।

ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন রাহাতকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, নূরা জেরিন ও রাকিব হাসানকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং আবুল বাশারকে যুগ্ম প্রধান সংগঠক করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০ জনকে যুগ্ম সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে দলটির নেতারা গণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

এমআর/এএস