নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশসমূহ বাতিল করে বিএনপি সরকার পতিত স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ ছিলো স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষে সংবিধানে থাকা স্বৈরতন্ত্রের সুযোগগুলো রহিত করে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করে।
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা ছিলো, বিএনপি ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদন দেবে। কিন্তু জনতার রক্তের সাথে বেইনসাফি করে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন সব অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে বিএনপিও পতিত স্বৈরতন্ত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করলো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রথম মেয়াদের ক্ষমতা সংহত হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে। গণভোটের সিদ্ধান্তও বিএনপিকে সাথে নিয়েই করা হয়েছে। জনাব তারেক রহমান নিজেও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেই বিএনপি এখন অতিসাংবিধানিকতা দেখিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে। এর চেয়ে হতাশার আর কী হতে পারে।
আরও পড়ুন: সঙ্গীত শিক্ষা চালু নিয়ে হেফাজতের ‘আপত্তি’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচার জাতির ওপরে নির্মম নির্যাতন করেছে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করে জারি করা অধ্যাদেশও বিএনপি অনুমোদনের জন্য সংসদে না তুলে পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করে দিচ্ছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও বিলোপ করার পথে হাঁটছে বিএনপি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচারীরা দেশটা শেষ করে দিয়ে গেছে। এখন যখন দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে তখন এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশও লোপ করছে বিএনপি। আর বিচারবিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সরাসরি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তথাপিও, বিএনপি নিজেও যেহেতু পতিত স্বৈরতন্ত্রের নিপীড়নের শিকার তাই আবারো সরকারকে অনুরোধ করবে, জনতার রক্তের সাথে বেইমানি করবেন না। স্বৈরতন্ত্রকে স্থায়ী বিলোপ করার উপায় হিসেবে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ব্যবস্থা করুন।
এআরএম