images

রাজনীতি

গণভোট বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চরম মাশুল দিতে হবে: বৈঠকে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। গণভোট বাস্তবায়ন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বিএনপি। গণভোট বাস্তবায়ন না করলে দলটিকে চরম মাশুল দিতে হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘ত্রয়োদশ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি গণভোট বাস্তবায়নের অন্তরায়?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ এর আয়োজন করে।

বৈঠকে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক হীনমন্যতা রয়েছে। দলটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না, আগেও বলেছি নাগরিক সমাজের সবাইকে। কিন্তু তারা হাসাহাসি করেছে। কারণ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুদলই বারবারই জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট এবং সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে তারা এবার ক্ষমতায় এসেছে। কারণ বিএনপির রাজনীতি আর এক্সক্লুসিভ নেই। জিয়াউর রহমানও একই কাজ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রশ্ন সমাধান করতে না পারা এবং ৭২ সালের সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন সমাধান করতে না পারায় তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। বিএনপি এখনো একই পথে হাঁটছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সংবিধানের কোথাও নেই যে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। বিএনপি নির্বাচনের আগে তফসিল ঘোষণা করেছিল। সেখানে ১ নং দফায় বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করবে। বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাকি সংবিধান লঙ্ঘন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কপি পাঠিয়েছেন। তাহলে তিনি ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য হলেন কীভাবে। সংবিধানের কোথাও নেই ঐক্যমত্য কমিশনের কথা।

তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। বিএনপির মতামত ততক্ষণ পছন্দ হয়, যতক্ষণ তা নিজেদের পক্ষে থাকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইনত প্রধানমন্ত্রী নয়, তিনি কার্যত প্রধানমন্ত্রী। গণভোটের জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন। সেইসঙ্গে মানুষের কাছে গণভোটের কথা বলেছেন।

আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু দাবি নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এত দাবি, সেগুলো এখন কোথায়? এখন আর দাবি নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিদিনই আন্দোলন হয়েছে। মানুষ আন্দোলন দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এখন দেশে জ্বালানি সংকট চলছে। সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে। আর মানুষ পাম্পে গিয়ে জ্বালানি পাচ্ছে না। দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা কথায় কথায় বলি, অমুক ভারতের দালাল, তমুক পাকিস্তানের দালাল। কারো প্রমাণের দরকার নেই। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি বাংলাদেশি কি না। তাহলে সংস্কারে কোনো বাঁধা থাকার কথা নেই। জুলাই সনদে ক্ষতিকর কিছুই নেই।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত; সবকিছু সংবিধান সম্মত হলে এখনও ক্ষমতায় থাকতো শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থাকতেন বিদেশে। মানুষের রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে শিখতে হবে। বাংলাদেশের বড় পরিবর্তনে সুবিধাভোগী হয়েছে বিএনপি। বিএনপিকে ইতিহাস থেকে শিখতে হবে। বিএনপি লম্বা সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল, তা থেকে কিছু শিখেনি।

তিনি বলেন, সবার আগে মানুষের অধিকার। এই সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে। গত ১৭ বছর জুলুম ও নির্যাতন করা হয়েছে সংবিধানের দোহাই দিয়ে। কত মানুষকে গুম-খুন করা হয়েছে। মানুষ এখন সচেতন, তারা নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে চায়। বিএনপি গণভোটকে উপেক্ষা করলে চরম মূল্য দিতে হবে।

সারোয়ার তুষার বলেন, খেলা আসলে হয়ে গেছে। এই খেলায় গোল দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, বিএনপি মাঠ গুছিয়েছিল, গোল দিয়েছে ছাত্ররা। আসলে বিএনপি ট্রফি নিয়ে গেছে। জুলাই সনদ হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্র। সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চাইলে নাকি রাজাকার হয়ে যাবে। বেগম খালেদা জিয়া সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। বিএনপিতে যেসব ৭২ প্রেমি আছে, তারা সংশোধনী ছুড়ে ফেলার কথা বলছে। বিএনপি হলো ছোট খেলোয়াড়। এখন আওয়ামী লীগ নেই। বিএনপি বড় খেলোয়াড় হয়ে গেছে।

ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুর বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। আমার ধারণা, গণভোট বাস্তবায়নে বিএনপি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছে। জুলাই সনদে এমন কোনো ব্যাপার নেই যা বিএনপির ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করবে। তাহলে গণভোট বাস্তবায়ন এতো গড়িমসি কেন? বিএনপির ইগো ইস্যুও থাকতে পারে।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, এতো রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে ভেবেছিলাম নতুন একটি রাষ্ট্র পাবো। বাংলাদেশে সুন্দর ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি চেয়েছি। আমরা এমন একটি সংস্কৃতিও চেয়েছিলাম যেখানে সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না।

তিনি বলেন, গণভোট বাস্তবায়ন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। জনগণ সংস্কারের পক্ষে। বর্তমান সরকার গণভোট বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করছে। গণভোট বাস্তবায়ন না করার জন্য সব ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান জনগণের জন্য। সবার আগে জনগণ। আমরা চাই জনগণের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হোক। জনরায় বাস্তবায়ন করা না হলে প্রয়োজনে রাজপথে নামা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন প্রমুখ।

এআর