জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে অধিবেশন চলাকালে প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
জবাবে স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামীতেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল নোটিশকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে ‘জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন’ এবং ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই অভিযোগ তুলে তিনি দলের সকল সদস্য নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন।
ওয়াকআউটের সময় স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান থাকে।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এর বাইরে আজই প্রথমবার সংসদে কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করলেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। দলটির সঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার কয়েকটি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। এর মধ্যে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি। এবারের নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে।
টিএই/জেবি