images

রাজনীতি

এ বছরের মধ্যেই বিএনপির কাউন্সিল: মির্জা ফখরুল 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ এএম

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল এ বছরের মধ্যে শিগগিরই হবে বলে জানালেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই। এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করেনি। কিন্তু আমার মনে হয় শিগগিরই হবে কাউন্সিল।’

বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে।

মির্জা ফখরুলের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- সরকার গঠনের পর সরকার ও দল এক হয়ে গেছে। দলের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে?

জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন , ‘দলের (বিএনপির) কার্যক্রম তো ছোটখাটো ভাবে চলছে। এক মাসে সরকার গঠন করতে তো সময় লেগেছে। দলের লোক বেশিরভাগই সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গাগুলোতে সময় লাগবে। এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।’ 
 
এদিনের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের সফলতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিসি নিয়োগ, অর্থনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে গুলশানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করলেন মির্জা ফখরুল।

‘এক মাসে সরকারে বিগ সাকসেস’

তারেক রহমানের নেতৃত্ব সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় এক মাসের মধ্যে তো সবচেয়ে বড় সাকসেস হচ্ছে যে কমিটমেন্টগুলো আমরা করেছিলাম আমাদের নির্বাচনের পূর্বে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করতে পেরেছি। তার মধ্যে ছিল আমাদের ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রজেক্ট, সেটি আমরা শুরু করে দিয়েছি। এরপরে কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ, সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু করতে পেরেছি। আগামী পয়লা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে দিস ইজ ভেরি বিগ এচিভমেন্টস ‘

তিনি বলেন, ‘এটা ছোটখাটো কোনো ব্যাপার না। নতুন একটা সরকারের ৩০ দিনের মধ্যে এই কাজগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শুধু কমিটমেন্ট না বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটা বড় সাফল্য।’

ফখরুল বলেন, ‘তবে  এটাও ঠিক, বড় রকমের একটা ঝামেলাও এসেছে। বিএনপির গভমেন্ট যখনই আসে তখনই একটা করে ঝামেলা আসে, এর আগেও দেখা গেছে। এবার এসেছে ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে বড় রকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কিন্তু খুব বলা যেতে পারে যে, যোগ্যতার সঙ্গে এই জিনিসগুলোকে মোকাবিলা করা গেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, তেলের দাম এখনো বাড়েনি। তেল নিয়ে কোনো রকম বড় রকমের কোনো স্ক্যান্ডেল তৈরি হয়নি। এবার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে বেতন না দেওয়ার ঝামেলা নিয়ে যেসব ঝামেলা হয়, সে সমস্ত ঝামেলা কিন্তু হয়নি। কারণ আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সবগুলোতে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংসদ শুরু হয়ে গেছে। সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়েছে, বিভিন্ন কমিটি গঠন হয়েছে। পার্লামেন্টের কাজ শুরু করেছে। আমি মনে করি, দিজ আর গুড এচিভমেন্টস। ওভারঅল এক মাসে বিগ সাকসেস সরকারের।’
 
‘অর্থনীতি সুস্থ করা বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ’

মির্জা ফখরুল বলেন,  ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে একেবারে সুস্থ করে ফেলা এবং অর্থনীতিকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসা। এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আপনারা জানেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চেঞ্জ হয়েছে। যার ফলে যে নীতি ফলো করা হচ্ছিল, সেটাকে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন, ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটিজগুলো বাড়তে শুরু করেছে। এটা একটা বড় পরিবর্তন বলে আমি মনে করি।’ 

তিনি বলেন, ‘যখনই ছোট ব্যবসায়ীরা কাজ করতে পারবে এবং তারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ যখন কিনতে পারবে, তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে, তখন ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি বাড়বে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এডভান্টেজ হচ্ছে জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যা ইকোনমিকে বাড়িয়ে দেয়। একটা উদাহরণ দিচ্ছি, এক টাকা করে খরচ করলে প্রতিদিন আপনার প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই ধরনের অর্থনীতি দিন দিন প্রসারিত হবে। যদি সুশাসন ঠিক থাকে, অবশ্যই অর্থনীতি গতি পাবে।’
 
‘ভিসি নিয়োগ প্রসঙ্গে’

দলীয় লোকজনকে ভিসি নিয়োগে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেখেন সমালোচনা তো থাকবেই। এখন পলিটিক্যাল গভমেন্ট তার নিজস্ব পলিটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগগুলো হবে। এটা তো এমন না যে, মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ফেরেশতা নিয়ে আসা হবে। দ্য বেস্ট পসিবল যাদেরকে মনে হয়েছে, তাদের দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দলীয় সরকার, কিছুটা দলীয় লোক তো থাকবেই। এটা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। সমালোচনা হবে না, তা বলছি না। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন নই।’
 
‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থাটাকে কিভাবে দেখছেন’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ যেটা সেটা হচ্ছে, পতিত ফ্যাসিস্ট যারা তারা কিন্তু চুপ করে বসে নেই । বাইরে থেকে তারা বিভিন্ন রকম কথা বলছে এবং অর্গানাইজ করার চেষ্টা করছে। এটা গেল একটা সাইট। কিন্তু এটাকে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। দ্বিতীয়ত আছে, আমাদের পার্লামেন্টে যারা এখন আমাদের বিরোধী দল, তারাও তাদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন। তারা কথা বলবেন। এগুলোকে আপনার সহনশীলতার মধ্যে আনতে হবে। আমি যেটা বিশ্বাস করি, ডেমোক্রেসি তখনই প্রপারলি ফাংশন করবে, যখন আপনি সেটাকে টলারেন্সের মধ্যে আনবেন, সহনশীলতার মধ্যে আনবেন। বিরোধীদল তো কথা বলবেই।’

‘বেগম খালেদা জিয়া থেকে তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেমন দেখছেন’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি তিনজনকে দেখেছি। জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট দেখেছি, নট এজ অ্যা মিনিস্টার, বাট এজ প্রাইভেট সেক্রেটারি টু ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার। এরপর আমি দেখেছি, বেগম খালেদা জিয়াকে তার মন্ত্রী হয়ে। আর এখন দেখছি আবার আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী হিসেবে।

এই তিনজনের ভিতরে কাকে ডাইনামিক মনে হয় আপনার?

জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা নেতা তার নিজের সকীয়তায় উজ্জ্বল। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকের আছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব ছিলেন একজন, তার একটা ভিন্ন আপিল ছিল জনগণের কাছে, মানুষের কাছে। বেগম  খালেদা জিয়ার ছিল আরেক রকম। আর আমাদের বর্তমান যিনি প্রধানমন্ত্রী, একেবারে নতুন। কিন্তু তার যে গতি দেখছি, আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আমি দেখছি যে তিনি ছুটছেন। তার ভেতরে কাজ করার একটা স্প্রিহা আছে, তার ভেতরে এমন একটা কিছু আছে, যেটা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে যে কাজ করতে হবে, জনগনের জন্য কাজ করতে হবে। এই বিষয়গুলো কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং কারও সঙ্গে কাউকে তুলনা করা যাবেই না।’

বর্তমান মন্ত্রিসভাকে ‘ভার্সেটাইল ক্যাবিনেট’ অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এটা নবীব ও প্রবীনের একটা মন্ত্রিসভা বলে মনে হয়।

‘আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরেও আপনি পলিটিক্সটাকে চলতে দেন। আমি যেটা মনে করি, লেট পলিটিক্স মুভ ইজ ওনওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ওনওয়ে। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুকে দেখে, রাজনীতিকে বন্ধ করে, গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে ডিফর্মড হবে। ইট মুভ ওয়ার্ক, কাজ করুক না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেহেতু এখন নিষিদ্ধ আছে, বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবেই, তারা কিছু কিছু কাজ করছে। কিন্তু পিপল তাদেরকে রিজেক্ট করেছে, রিজেক্ট করে দিয়েছে একদম, তাই না।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি নিশ্চয় দেখছেন, যা কিছু লিখছেন, সমালোচনা করছেন, বাধা কি দেওয়া হচ্ছে?  এখন পর্যন্ত সেই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, বলতে পারেন আমরা নেগেটিভ কোনো কাজ করেছি। আমাদের তথ্যমন্ত্রী তো প্রত্যেকদিন বলতেছেন, আমাদের সবকিছু খোলা, আমরা সবকিছু ওয়েলকাম করব, কাউকে চাপ সৃষ্টি করা হবে না। ওইটাই আমাদের নীতি প্রথম থেকে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আপনারা নিরপেক্ষভাবে দেখবেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে, সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে কিন্তু মিডিয়া। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’

বিইউ/এএইচ