images

রাজনীতি

সংসদ নির্বাচন: বিএনপি-জামায়াত ভোটের ব্যবধান ১ কোটি ৩৬ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫। 

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি প্রার্থীরা মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯ ভোট। ফলে মোট প্রাপ্ত ভোটে জামায়াতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে সংসদ নির্বাচনে এগিয়ে থেকেছে বিএনপি।
 
নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় ফলাফল স্থগিত করে কমিশন। এতে ২৯৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৫ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ১৯৩ জন। ভোট পড়ার হার ৬০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এদিকে প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ১১৩টি। বাতিল ভোট ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮০ টি।
 
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ২১১টি আসন পেয়েছে (চট্রগ্রাম -২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনসহ)। দলটির প্রার্থীরা সব আসনে পেয়েছে বৈধ ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা ৬৮টি আসন পেয়েছেন। দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়ে ঘরে তুলেছেন ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ ভোট, যা বৈধ ভোটের ৫ দমমিক ৭৯ শতাংশ। 

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ছয়টি আসনে জয় লাভ করেছে। দলটির প্রার্থীরা পেয়েছেন ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট, বৈধ ভোটের ৩ দশমিক শূণ্য ৫ শতাংশ।
 
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন পেলেও দলটির সব প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৭ টি, যার শতকরা হার দুই দশমিক শূণ্য নয় শতাংশ।

খেলাফত মজলিশ পেয়েছে একটি আসন। ভোট পেয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০টি, যার শতকরা হার শূণ্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে জয় লাভ করেছে। মোট ভোট পেয়েছে এক লাখ চার হাজার ৮১২টি, যার শতকরা হার দশমিক ১৪ শতাংশ।


গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৫১১ ভোট, একটি আসনে জয়লাভ করলেও দলটির ভোটের হার দশমিক ৩২ শতাংশ।
 
ভোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করলেও মোট ভোট পেয়েছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৪০টি। 
 
একটি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। মোট ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৭৯টি, যার শতকরা হার দশমিক ১৪ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টি দলের মধ্যে বাকি ৪১টি দলের কোনোটিই এক শতাংশ ভোটও পায়নি।
 
বাংলাদেশ সম অধিকার পার্টি (বিইপি) পেয়েছে ১৬৯ ভোট, জাতীয় পার্টি-জেপি ৩৩৫০৮ ভোট, জাকের পার্টি ১৬৩৯৩ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) দুই লাখ ১০ হাজার ৫৬২ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৬৯২১ ভোট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি- বিএমজেপি ৬১৫৩ ভোট, গণফোরাম ৫০৬৬ ভোট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি ২লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৯ ভোট,

বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি) ৩১৯৪৬ ভোট, জনতার দল ৩৭৪০১ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ১৬২৯১ ভোট,  বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ৩৯৮০৫ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ৫৮৯ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ১৪৯৯ ভোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন -এনডিএম ১৫৪২ ভোট, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ১২৮৫১৯ ভোট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩৬৫১ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৬৩০৪৯ ভোট,  গণতন্ত্রী পার্টি ১৯১ ভোট, 

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৭৭২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোট ২৬১১ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৩২৯৯৩ ভোট, জাতীয় পার্টি-জাপা ৬৬২৪২৮ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ৪৪১১ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ ১১৬৬০ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৬০২২৪ ভোট,  বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ২০৩৩ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ৪৮১৬ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ২১৬৯৩ ভোট,  বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৪৫০৮ ভোট ও আমজনতার দল পেয়েছে ৫৭৬০ ভোট।
 
এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট পেয়েছে তিন লাখ ৩৫ হাজার ১১ ভোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৭ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ১৭৭২ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৬ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ৪৪৭৭ ভোট, নাগরিক ঐক্য ৬৮৯৯ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস ৬৪৪৬ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ১৩২৩৩ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ৫৪৭৫ ভোট ও গণ ফ্রন্ট পেয়েছে ৭৫৩ ভোট।
 
ইসিতে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আটটি দল প্রার্থী দেয়নি। এগুলো হলো-বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম। 
 
বিএনপি ২১১টি আসনের মধ্যে তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। এই আসনের উপ-নির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হলে এই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
 
এমএইচএইচ/ক.ম