০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
শারীরিক জটিলতা নিয়ে প্রায় ১০ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। এখন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং শঙ্কা কেটেছে। হাসপাতালের বেডে বসেই এলাকাবাসীকে সুখবর দিয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু।
বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান তিনি।
পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, “মৃত্যুর মুখে দাঁড়ালে আয়ু বেড়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ, শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। গতকাল ড্রেইন টিউব ও ক্যানুলা সব খোলার পর নিজেকে মুক্ত মনে হচ্ছিল। টানা ৮ দিন অলমোস্ট মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছি। তবে নানা জটিলতায় শরীরের ওপর ধকল গেছে। আমার হাতে ক্যানুলার আর জায়গা না থাকায় শেষে বাচ্চাদের ক্যানুলা দিয়ে হাত প্রায় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সে গল্প অন্য একদিন।”
তিনি বলেন, “আমার জন্য এখন খুশির সংবাদ হলো, কাঠালিয়া-রাজাপুর উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও আশ্রমের স্পেশাল বরাদ্দের জন্য আসিফ মাহমুদ বরাবর নভেম্বরে আবেদন করেছিলাম। সেটি ডিসেম্বরে পাশ হলেও নির্বাচনের জন্য দেওয়া হয়নি। এখন দেওয়া শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, কিছুদিন পরে কাঠালিয়ার রাস্তাঘাটের জন্য যে ১১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে, তার কাজও শুরু হবে।”

ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “প্রতি মসজিদ ও মন্দির ২ লাখ টাকা করে পাবে। তবে যত নাম দিয়েছিলাম, সবগুলো আসেনি। যারা বরাদ্দ পাননি, মন খারাপ না করার অনুরোধ রইল। আমি যতদিন আছি, আপনাদের জন্য চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। আমার অঞ্চলের জনগণের এক পয়সা হক নষ্ট হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ। ক্ষমতার লোভ কোনো কালেই ছিল না। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসার লোভ, আপনাদের জন্য কাজ করার লোভ আমার আছে। কারণ আমি জানি, এই কাজই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। যারা দুর্নীতি করে আপনাদের হক নষ্ট করবে, তারা টিকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দলমত নির্বিশেষে আমার ইচ্ছা, আমার অবহেলিত এলাকার ভাগ্য পরিবর্তন করা। গত ৫০ বছরে কোনো এমপি-মন্ত্রী ঝালকাঠি-১-এর ভাগ্য পরিবর্তন করেননি। এলাকায় ঘুরে দেখেছি, এখনো কতটা অনুন্নত এই অঞ্চল। এখনো রাস্তাঘাট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার অবস্থা নেই। আপনাদের কাছে দাবি থাকবে শুধু একটাই—বাকি যে ১১৩ কোটি টাকার কাজ নির্বাচনের আগেই আমার প্রচেষ্টায় পাশ হয়েছে, সেই কাজটি যেন ঠিকভাবে হয়। এক পয়সাও যেন এই কাজে দুর্নীতি না হয়, সেটি আপনারা খেয়াল করবেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান ডা. মাহমুদা মিতু। পরে তার গাইনোকোলজিক্যাল ইমার্জেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকার পর এখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।
এসএইচ/এআর