জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ এএম
সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা হলে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ আগস্টের পর নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সিদ্ধান্তই বাতিল করতে হবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে গণভোটের বিধান চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার শিশির মনির বলেন, ‘গণভোটের বিধান বাতিল করা হলে ৫ আগস্টের পরবর্তী সব সিদ্ধান্তই অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার বিষয় নয়; যা সিদ্ধান্ত হওয়ার তা জাতীয় সংসদেই হওয়া উচিত। আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা রাজনৈতিকভাবে বুমেরাং হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, এই রিটের রায় হওয়ার সময় এখনো আসেনি। মঙ্গলবার আদালত শুধু সিদ্ধান্ত দেবেন যে, তারা রুল জারি করবেন কি না এবং কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেবেন কি না।
ব্যারিস্টার শিশির মনির অভিযোগ করেন, আর মাত্র ১০ দিন পর সংসদ অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এমন সময়ে গণভোটের বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা সরকারের প্রচ্ছন্ন ইন্ধনেই হতে পারে।
প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা গণভোট বাতিলের কথা বলছেন, তারা কি তবে জাতীয় নির্বাচনও বাতিলের কথা বলছেন না? যদি সংবিধানের সংশোধনীর প্রক্রিয়াগুলো বাতিল করতে হয়, তবে শুধু গণভোট কেন? ৫ আগস্টের পর জারি হওয়া বাকি ১৩৫টি অধ্যাদেশও তবে বাতিল হওয়া উচিত।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আদালতের মাধ্যমে ব্যবহার করে সংকীর্ণ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করা সমীচীন হবে না। এমনটা করা হলে তা দেশের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার শামিল হবে।’
টিএই/একেবি