images

রাজনীতি

বরিশালে ২১ আসনের ১৮টিতে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগের মোট ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দলীয় নেতাদের মতে, ভোটাররা তাদের ৩১ দফা কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ভোটাররা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োগ করেছেন। প্রচণ্ড রোদ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা গেছে, জেলার সব আসনসহ ঝালকাঠির সব আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এ ছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরে বেশিরভাগ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। এই ফলাফল প্রদর্শন করে বরিশাল বিভাগে বিএনপির প্রভাব ও জনপ্রিয়তা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বরগুনা জেলার ২টি আসন

বরগুনার দুটি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ এবং বরগুনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম মণি জয় পেয়েছেন।

বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী): এ আসন থেকে মোট ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট। এতে মোট ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ।

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও তালতলী): এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম মণি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট। এতে ৬ হাজার ৪১৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম মণি।

পটুয়াখালী জেলার ৪টি আসন

পটুয়াখালীর ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুইটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটির একটিতে জামায়াত অন্যটিতে গণঅধিকার পরিষদ।

পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৮৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৬১ ভোট।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল): এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণের সেক্রেটারি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক লাখ ৭৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. সহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৭৬ ভোট।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা): এ আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ৯৭ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩৬১ ভোট।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী): এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন এক লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১২৭ ভোট।

ভোলা জেলার ৪টি আসন

ভোলার চারটি আসনেই বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান (পার্থ) দ্বিতীয়বারের মতো এবং ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোলা-১ (সদর): এ আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২৫ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন।

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ফজলুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৩ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়েছেন।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন): এ আসনে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশে ডেভেলপমেন্ট পার্টির নিজামুল হক ফুলকপি প্রতীক নিয়ে ৫৭ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়েছেন।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোস্তফা কামাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট পেয়েছেন।

বরিশাল জেলার ৬টি আসন

বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। প্রতিটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অবস্থানের জন্য লড়াই হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।
 
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান ৪৪ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
 
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): এ আসনে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবদুল মন্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নেছার উদ্দিন পেয়েছেন ৬ হাজার ২১ ভোট।
 
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): এ আসনে ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৬ ভোট।
 
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ): এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্র‍ার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
 
বরিশাল-৫ (মহানগরী ও সদর): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন।
 
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): এ আসনে ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপির আবুল হোসেন খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়েছেন।

ঝালকাঠি জেলার ২টি আসন

ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর ঝালকাঠি-২ (সদর–নলছিটি) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি প্রার্থী। জেলা প্রশাসন সূত্রে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল জানা গেছে।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল পেয়েছেন ৬২ হাজার ১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০ ভোট। এ আসনে জামাল ৬ হাজার ৮৯০ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন।

ঝালকাঠি-২ (সদর–নলছিটি): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট। এ আসনে ইলেন ভূট্টো ৪৩ হাজার ২৯৫ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন।

পিরোজপুর জেলার ৩টি আসন

পিরোজপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুইটিতেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা এবং একটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর এবং জিয়ানগর): এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ১ লাখ ৭ হাজার ১০৫ ভোট পান।

পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী এবং স্বরূপকাঠি): এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট।

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল ৬৩ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী শামীম হামিদী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৬১০ ভোট।

এএইচ/এফএ